ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম

পূজামণ্ডপ নয় যেন ‘খবরের রাজ্য’

পূজামণ্ডপ নয় যেন ‘খবরের রাজ্য’
×
×

পূজামণ্ডপের চিত্রকল্পে সংবাদপত্র। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০৪ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৫

ফটক দিয়ে পূজামণ্ডপে ঢুকতেই চোখে পড়বে ঝুড়িভর্তি সংবাদপত্র হাতে এক হকার। পাশে কাগজে তৈরি সাইকেল আরোহী। চারদিকে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ে সাজানো মণ্ডপ। দেয়ালে ফুটে উঠেছে কবুতরের ডানায় বার্তা পাঠানো, ঢোল বাজিয়ে খবর জানানো ঢুলী, ছুটে চলা রানার ও বাড়ি বাড়ি সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়া হকারের গল্প। এক কোণে রয়েছে ছাপাখানার প্রতিকৃতি। আর দেবী দুর্গার শাড়িও তৈরি হয়েছে কাগজ দিয়ে।

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ এবার যেন সংবাদ ও সংবাদপত্রের ইতিহাসের এক জীবন্ত জাদুঘর। পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ আয়োজিত এ মণ্ডপের এবারের থিম ‘যুগান্তরের বার্তাবহন’। যোগাযোগের বিবর্তন এবং যুগে যুগে মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া বার্তাবাহকদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে নানা চিত্রকল্পে। গত বছর মণ্ডপের থিম ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি’।

মণ্ডপের প্রতিমা গড়েছেন সূর্য দাশ। সৃজনশৈলী ও চিত্রকল্প তৈরি করেছেন তন্ময় দাশ ও জুয়েল দত্ত।

পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও শিক্ষক পিকুল দেব বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তারে ছাপা সংবাদপত্র এখন অনেকটাই কোণঠাসা। একসময় খবরের প্রধান উৎস ডাকঘর আজ বন্ধ, নেই রানারের ছুটে চলা। এখন মোবাইল ও ইন্টারনেটে মুহূর্তেই খবর পৌঁছে যায়। তবে সংবাদের দীর্ঘ ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। তাই এবার দুর্গোৎসবের আয়োজনের মধ্য দিয়ে খবরের বিবর্তন, যোগাযোগের পরিবর্তন ও যুগে যুগে দায়িত্ব পালন করা বার্তাবাহকদের তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ আয়োজন শুধু শিল্প নির্মাণ নয়; ইতিহাসের প্রতি দায়িত্ববোধ, ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং নীরব বার্তাবাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রয়াস।

পিকুল দেব জানান, এবার পূজামণ্ডপ তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাজসজ্জায় ব্যয় হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। নিজেদের চাঁদার টাকায় এ ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে।

শুক্রবার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত। তিনি বলেন, পতেঙ্গার এই আয়োজন শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের জন্যই ব্যতিক্রমী। কাগজকে সভ্যতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সংবাদপত্রের ঐতিহ্য এবং হকার ও রানারদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

কাটগড় থেকে মণ্ডপ দেখতে আসা ব্যাংকার প্রিয়াংকা চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের অনেক পূজামণ্ডপ ঘুরলেও এ আয়োজন আমার কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। খবরের উপকরণ কাগজ দিয়ে তৈরি শাড়িতে দেবী দুর্গাকে দেখে আমার ভালো লেগেছে। দেবী দুর্গাকে যুগান্তরের বার্তাবাহক হিসেবে এমন রূপে দেখার অভিজ্ঞতাও আমার কাছে নতুন।

ইস্টার্ন রিফাইনারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলে, এখানে এসে সংবাদ ও সংবাদপত্র সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেছে। ছাপাখানাও দেখা হয়েছে। কাগজের শাড়িতে দুর্গাকে ভালো লেগেছে।

চিত্রকল্পকার তন্ময় দাশ বলেন, যুগ বদলায়, কিন্তু মানুষের কাছে সত্য ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব কমে না। বার্তা হারিয়ে গেলেও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বাহনের ইতিহাস থেকে যায়। সেই ভাবনা থেকেই এবার দেবী দুর্গাকে কাগজের শাড়িতে বার্তাবাহক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×