ধর্মীয় সম্প্রীতি
একপাশে মসজিদ, অন্যপাশে পূজামণ্ডপ
ছবি: গুগল ম্যাপ
বরিশাল ব্যুরো ও আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৪৪
বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্প্রীতি নিয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম লিখেছেন– মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মোসলমান। আক্ষরিক অর্থেই হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতির সেতু বন্ধনের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব বাগধা (দাসপাড়া) গ্রামে।
পূর্ব বাগধা গ্রামের এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে বাইতুল আমান জামে মসজিদ। মাঠের অন্য পাশে সার্বজনীন দুর্গামন্দির। মুসলিমরা নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করছেন, হিন্দুরা মণ্ডপে করছেন পূজা। মসজিদে আজানের নির্ধারিত সময়ে মণ্ডপে ঢাকের শব্দ ও সাউন্ডবক্সে গানবাজনা বন্ধ হয়ে যায়। নামাজ শেষ হলে মণ্ডপে ফের পূজার উৎসব ফিরে আসে। গত দুই দশক ধরে এখানে উৎসবমুখর শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করা হচ্ছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে কখনও ধর্মীয় বিদ্বেষের ঘটনা ঘটেনি।
গত রোববার বিকেলে সপ্তমী পূজায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আসরের আযান হওয়ার আগে মণ্ডপের মাইকসহ বাদ্যযন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় এলাকার মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দূর্গামণ্ডপে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থী নারী-পুরুষ ভক্তরা দেবীর চরণে প্রণাম করেন। মন্দির আঙিনায় ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ, উলুধ্বনি ও আড়তি শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় প্রসাদ বিতরণ।
সন্ধ্যার পর মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হলে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলিম পরিবারেরও নারী-পুরুষরা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করেন। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে দূর থেকেও পরিবারসহ আসছেন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় বিমল দাস জানান, তাঁর বাবা নিলকান্ত দাস, কাকা রাখাল চন্দ্র দাস ও ভাই কালিপদ দাস গ্রামের মসজিদ-মন্দির, স্কুলসহ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য জমি দান করেছেন। পূর্ব পুরুষ থেকে এলাকায় হিন্দু মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন।
পূর্ব বাগধা দাসপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল দাস জানান, মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে এবং ২০০৭ সালে স্থাপিত হয় জামে মসজিদ। সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন, কখনও কোনো সমস্য হয়নি।
গ্রামের মো. খলিল মিয়া বলেন, আমরা এলাকার হিন্দু মুসলিম সবাই পাশাপাশি বাড়িতে মিলেমিশে বসবাস করি। একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির থাকলেও সবাই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। এ নিয়ে কোনো দিন কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠেনি।
স্থানীয় মুসল্লি মো. আলী আজগর হাওলাদারে ভাষ্যমতে, মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় মন্দিরের মাইক, ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। আমরাও তাদের মন্দিরে পূজা অর্চনার সময় সহযোগিতা করে আসছি। পরস্পরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের চমৎকার নিদর্শন রয়েছে এই গ্রামে।
বাগধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি জানিয়েছেন, তিনি গত ২৪ বছর ধরে এলাকার চেয়ারম্যান। একই মাঠের দুপ্রান্তে মসজিদ ও মন্দির। সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। বিষয়টি এলাকার জন্য গর্বের।
- বিষয় :
- মসজিদ
- পূজা মণ্ডপ
- বরিশাল