নাজিরপুরে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবি: শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মা নিখোঁজ
সংগৃহীত ছবি
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০৬ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২২
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী (৩৫) ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুকন্যা অদ্রিতা বেপারী (৮) পানিতে ডুবে যান। গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে বরিশালের ডুবুরি দল মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করতে পারলেও মা রিনা বেপারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রাত ৯টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠীর কালিগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রলারে ৬০ থেকে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৭টি মোটরসাইকেল ছিল। নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া শাহানাজ (তমা) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রলারের এক যাত্রী জানান, ট্রলারডুবির পর অধিকাংশ যাত্রী স্থানীয়দের সহায়তায় সাঁতরে কূলে উঠতে পারলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিখোঁজ হন।
উদ্ধার হওয়া নিহত শিশু অদ্রিতার পিতা শংকর বেপারী জানান, শ্রীরামকাঠী বাজারে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে পূজা দেখে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই এবং ফেরিঘাটে এসে ট্রলারে ওঠার পরে ট্রলারটি একদিকে কাত হয়ে গেলেও ট্রলারচালক ওই অবস্থায় চালানো শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে আমিসহ সব যাত্রী নদীতে ডুবে যাই।
শংকর বেপারী আরও বলেন, আমি ঢাকার একটি সিকিউরিটি গার্ড প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে নিজ জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠীর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। ওই দিন রাতে পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজার থেকে পূজা দেখে ট্রলারযোগে সপরিবার বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ (তমা), সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব, পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান, নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।
উদ্ধার অভিযানে নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি এবং পিরোজপুরের জেলা কর্মকর্তা রায়হানুর আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আমরা কাজ করে চলেছি। রাত ১২টার দিকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ট্রলারডুবি হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে এই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটছে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া শাহনাজ (তমা) বলেন, উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজারের কালিগঙ্গা নদীতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী ও ৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই যাত্রী মা ও মেয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ডুবুরি দলের সহায়তায় শিশু মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মাকে এখনো পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- ফায়ার সার্ভিস
- ট্রলার ডুবি
- নাজিরপুর