বাস-ট্রাক সংঘর্ষ
তিন মাস বেতন না পেয়ে নতুন চাকরিতে যোগ দেন আনোয়ার, বাড়ি ফেরার পথে গেল প্রাণ
বামে আনোয়ার হোসেন ও ডান থেকে প্রথমে ফাতেমা বেগম
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৪ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:২৩
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাইপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৩০) ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে নতুন করে ‘ইটিপি প্লান্ট’ নামক একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন। সেই কোম্পানিরই প্রথম কাজে তিনি বরিশাল যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। তার ছোট্ট ছোট্ট দুই সন্তান নিয়ে কিভাবে বাকি জীবন পার করবেন, এই ভেবে আর্তনাদ করছিলেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম। আনোয়ারের মেয়ে হাফসার বয়স পাঁচ বছর হলেও ছেলে হুজাইফের বয়স এখনও বছর পূর্ণ হয়নি।
জানা যায়, আজ মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন।
নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, আরপি পরিবহনের বাসটি বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এলে পৌঁছালে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর, রাজশাহীসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় আনোয়ার ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
চাঁইপাড়া গ্রামে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম দেখা যায়। স্ত্রী ফাতেমা বাবার বাড়ি ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর শুনে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কিভাবে বাকি জীবন পার করবেন, এই ভেবে বারবার অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। তবে তিনি নিজ হাতে স্বামীকে গোসল করিয়েছেন। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনায় আনোয়ারের এক চোখ উঠে গেছে। সমস্ত শরীরে ক্ষত। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হতে পারে।
আনোয়ারের লাশ আনতে নাটোরে গিয়েছিলেন চাচাতো ভাই আকতার হোসেন। তিনি সমকালকে জানান, তার ভাইয়ের কিছু জিনিস খোয়া গেছে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলে কল ঢুকলেও কেউ রিসিভ করছে না। পরে তিনি লাশ নিয়ে বাড়িতে আসেন।
বিকেল পাঁচটায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আনোয়ারের মরদেহ দাফন করা হয়।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আনোয়ারের বৃদ্ধ বাবা বাবর আলী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘এখন আমার সংসার কিভাবে চলবে। নাতি-নাতনিগুলোও কিভাবে মানুষ হবে। অল্প বয়সী ছেলের বউ কিভাবে বাকি জীবন পার করবে।’
শ্বশুর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ে তার বাড়িতেই থাকতো। আনোয়ারকে যে প্রথমে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল শহিদুল নামে তারই ভাতিজার কলে। সে জামাইয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারে। পরে মেয়েকে নিয়ে একই উপজেলায় আনোয়ারের চাইপাড়া গ্রাম আসে।’
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আনোয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে জানানো হয়। পরে মরদেহটি বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- নাটোর
- বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ
- নিহত