ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে মাদকের আসামি ছিনতাই

দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে মাদকের আসামি ছিনতাই
×
×

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, স্বজনরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন– ভালুকা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল ইসলাম। তারা চিকিৎসা নিয়ে এখন ব্যারাকে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সজনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কদ্দুসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে যায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশের একটি দল। তারা কদ্দুসকে আটক করলে তিনি দাবি করেন, মামলায় জামিনে আছেন। পুলিশ সদস্যরা এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। তখন কদ্দুস ও স্বজনরা টালবাহানা শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক পর্যায়ে কদ্দুসের স্বজন ও সহযোগীরা দলবেঁধে পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা এতে বাধা দিলে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এক পর্যায়ে কদ্দুসকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন তারা। এ সময় এএসআই রাহিদুল ও কনস্টেবল বাকিরুল আহত হন।

খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। রাত ৯টার দিকে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহত এএসআই রাহিদুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। এ বিষয়ে আসামির স্বজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, হামলাকালীদের মধ্যে পুলিশ শুধু গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি কদ্দুসকেই চিনতে পেরেছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলায় অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের নাম-পরিচয় পেলেই মামলা নথিভুক্ত হবে। আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে পুলিশ ব্যারাকে অবস্থান করছেন।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

আরও পড়ুন

×