শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী
দুই বোনকে বিয়ে করায় মুখে চুন-কালি মাখিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে এক দম্পতিকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সমকাল
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪২ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩১
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় নিজের শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন নওগাঁর এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তাকে ভাড়া বাসা ছাড়তে হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়েও স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যুবক (৩৫) নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। তার প্রথম স্ত্রীর (২৮) সঙ্গে সংসার চলমান থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে (২১) বিয়ে করেন তিনি। তিনি বদলগাছী উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সম্মতি ও প্রথম স্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন ওই যুবক। বিয়ের পর তারা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বদলগাছীর ভাড়া বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে করে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন। এ সময় তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই যুবকের দাবি, তার শ্যালিকার অন্যত্র বিয়ে হলে অতীতে তাদের একসঙ্গে তৈরি করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে তাকে হয়রানির শিকার হতে হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন তিনি।
তবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ। জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।