ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে অবরোধ চলবে: আন্দোলনকারীরা

টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সড়ক অবরোধ

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে অবরোধ চলবে: আন্দোলনকারীরা
×
×

ফাইল ছবি

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫২

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে মঙ্গলবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

মঙ্গলবার সকালের দিকে অবরোধকারীরা মাচালং ১৪ কিলো, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারামের লাদু মনি বাজার, বাঘাইহাটের হাজাছড়া, ১০ নম্বর এলাকায় টায়ার জ্বালান আন্দোলনকারীরা। জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধ চলাকালে কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। দীঘিনালা-সাজেক সড়ক বন্ধ থাকায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষ যানবাহনে চলাচল করতে পারেননি। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম গ্রামগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক থেকে দ্রুত সরানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংকট নিরসনে গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। পাঁচ দাবির মধ্যে চার দাবি প্রশাসন মেনে নেয়। তবে একটি দাবি নিয়ে একমত না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে– বৈঠক অব্যাহত।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ এক বিবৃতিতে বলেন, জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় হামলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাজেকের জনগণকে সশস্ত্র সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা হুমকি থেকে রক্ষা করতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় দুই মাস ধরে জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন বরাবরই তা উপেক্ষা করে চলেছে। গঙ্গারাম এলাকায় যদি জেএসএস সন্তু গ্রুপের কোনো হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণ প্রশাসনকে নিতে হবে। 

এ বিষয়ে জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহ-সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জেএসএসকে যেসব বিষয়ে দোষারোপ করা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কিছু পকেট সংগঠনকে দিয়ে অবরোধের ডাক দিয়ে গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কৃত্রিম ইস্যু তুলে জনসাধারণকে ব্যবহার করে এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এটা অন্দোলন নয়। এতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেই। জনগণ চায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সাজেক এলাকা থেকে চলে যাক। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে জনসাধারণকে জিম্মি রেখেছে। সাম্প্রতিককালে সেখানকার জনগণ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ও অসহযোগিতা শুরু করেছে। 

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানান, দুই সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তাদের পাঁচ দাবি পূরণ না করায় সড়ক অবরোধ চলছে। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করার জানানো হলেও এখনো ডাকা হয়নি। তবে আগামী ৫ নভেম্বর একটি দাবির বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হতে পারে। 

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়কের কোথাও অবরোধকারীদের দেখা যায়নি। তবে অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ। কোথাও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমের টহল অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×