‘সরকারের বিরুদ্ধে বলিনি, নিরাপত্তাহীনতা-ক্ষোভ থেকেই লাইভ করেছিলাম’
বুধবার জামিনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার। ছবি: সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৭ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:২১
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ এবং ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ মন্তব্য করার পর গ্রেপ্তার হওয়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সাথী আক্তার। এ সময় তিনি দাবি করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। অথচ সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সাথী আক্তার বলেন, ‘যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, সে দলের লোকজনই আমাকে লাথি মারল। নেত্রীর সুস্থতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সারিতে প্রথম দিকে অংশ নিয়েছিলাম। নির্বাচনে নিজে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও ভোটকেন্দ্রে এনে তার পক্ষে ভোট চেয়েছিলাম। অথচ আজ তাদের লোকজনই আমার গায়ে হাত তুলল। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের।’
নিজের ফেসবুক লাইভের বিষয়ে সাথী আক্তার বলেন, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চার কয়েল তার চুরি হয়েছে। প্রতি কয়েল তারের দাম ১২ হাজার টাকা। এতে তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বারবার চুরির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেন বলে দাবি করেন।
সাথী আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলিনি। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বারবার চুরির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও তীব্র ক্ষোভ থেকেই ফেসবুক লাইভটি করেছিলাম।’
সাথী আক্তারের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার দিন বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার শোরুমের সামনে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে ‘ইব্রাহিম’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন তিনি।
সাথী আক্তার জানান, ঘটনার পরদিন রাতে পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও বিশ্রাম প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুস্থ হওয়ার পর এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান এই নারী উদ্যোক্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুস্থ হওয়ার পর এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেব এবং বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানাব।’
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ ও মেকওভার শপ পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
সম্প্রতি ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারিত দুটি লাইভে নিজের প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তার একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে বুধবার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।