ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা

ভাইয়ের ফোন ধরিস না কেন—বলেই রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর

ভাইয়ের ফোন ধরিস না কেন—বলেই রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর
×
×

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:২৬ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:২৭

খুলনা নগরীতে আবারও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চাইনিজ প্যালেসে ভাঙচুর চালায় কয়েকজন যুবক। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

রেস্তোরাঁ কর্মচারীর জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চার যুবক ভেতরে প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে। কিন্তু মালিক ওই সময় রেস্তোরাঁয় ছিলেন না। যুবকেরা ‘ভাইয়ের ফোন ধরিস না কেন ? তোরা কোথাকার হনু হইছিস, ফোন ধরিস না কেন’ বলেই চেয়ার দিয়ে কাচ ভাঙচুর করে। তারা এলোপাতাড়ি লোহার চেয়ার ছুড়ে ফেলে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে চলে যায়।

হামলাকারীরা কারা, কেন হামলা চালিয়েছে- এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি রেস্তোরাঁর কেউ। রেস্তোরাঁর মালিক জামাল হোসেন বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাননি। 

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পাওয়া ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ২০-২২ বছর বয়সি চার যুবক স্বাভাবিকভাবেই রেস্তোরাঁ প্রবেশ করছেন। তারা ফোন হাতে কর্মচারীদের সঙ্গে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লোহার চেয়ার দিয়ে আসবাবপত্র ভাঙার চেষ্টা করতে থাকেন। তারা এদিক সেদিক চেয়ার ‍ছুড়ে মেরে চলে যান।

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, হামলাকারী যুবকদের বয়স খুবই কম। কেন ভাঙচুর হচ্ছে খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ অক্টোবর রাতে নগরীর সন্ধানী ক্লিনিকে ভাঙচুর চালাচুর চালায় একদল যুবক। পরে তারা ক্লিনিকের সামনে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের মালিকপক্ষ গণমাধ্যমে কোনো কথা বলেনি। পরদিন নিউ সন্ধানী ক্লিনিকে মহড়া দেন সশস্ত্র যুবকেরা। এর আগে নগরীর কুইন্স হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় কিছু যুবক। চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়েছে সুরক্ষা ক্লিনিকেও।

কয়েকজন চিকিৎসক জানান, খুলনার কিছু সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ক্লিনিকগুলোতে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ভীতি ছড়ানোর জন্য এই ভাঙচুর চালানো হয়। পুরো ঘটনায় তারা এতোই আতঙ্কিত যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোরও সাহস পাচ্ছেন না।

চাঁদা দাবির একই অভিযোগ করেন, আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত কয়েকটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

অবশ্য খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।

আরও পড়ুন

×