ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা শেষ মধ্যরাতে, সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত অর্ধশতাধিক ট্রলার

নিষেধাজ্ঞা শেষ মধ্যরাতে, সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত অর্ধশতাধিক ট্রলার
×
×

পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ঘাটে জাল, বরফ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। ছবি: সমকাল

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৮

মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার জেলেরা। ইতোমধ্যে পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ঘাটে জাল, বরফ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। এসব ট্রলারে তিন শতাধিক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যাবেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে সাগর ও স্থানীয় নদ-নদীতে মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা। এ জন্য কেউ ট্রলারে জাল তুলছেন, কেউ চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী কিনছেন। আবার কেউ বরফকল থেকে বরফ সংগ্রহের জন্য আগাম সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন। সাগরে মাছ ধরতে গেলে প্রতিটি ট্রলারকে কমপক্ষে ১০ দিন অবস্থান করতে হতে পারে।

জেলেরা জানান, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা সাগর থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরে আসেন। এ সময় কেউ জাল মেরামত করেছেন, কেউ ট্রলার মেরামতের কাজ শেষ করেছেন। মাছ ধরাই তাদের প্রধান জীবিকা হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয়েছে তাদের।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগে সাগর থেকে ফিরে আসার সময় বৈরী আবহাওয়া ও মাছ কম পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছেন জেলেরা। তাদের ভাষ্য, মাছ ধরতে গিয়ে খরচের তুলনায় আয় কম হওয়ায় অনেকের মুখেই হাসি নেই।

বালিপাড়া এলাকার ট্রলারমালিক দুরাল ফকির বলেন, ‘জিয়ানগরসহ বিভিন্ন এলাকার ট্রলারমালিকেরা সরকারের নির্দেশ মেনে মাছ ধরা বন্ধ করে তীরে ফিরে এসেছেন। এ সময় জাল ও ট্রলার মেরামতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সাগরের উদ্দেশে রওনা হব।’

পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী রবিউল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার মৎস্যবন্দরে ফিরে এসেছিল। ২২ দিন পর আবার জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে যাবেন। এ সময় তারা জাল ও ট্রলার মেরামত করেছেন। তবে পাড়েরহাট বন্দরে মাত্র দুটি বরফকল থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বরফ সরবরাহ করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে অন্য স্থান থেকেও বরফ সংগ্রহ করতে হবে।

পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমিতির সহসভাপতি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে এ বছর সাগর ও নদ-নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রবণতা কমেছে বলে তারা মনে করছেন। এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এ সময় জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকার বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের খাদ্যসহায়তা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিয়ানগর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সাগর ও নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন—এমন প্রায় ২ হাজার ৮০০ জেলেকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে জেলেরা আবার স্থানীয় নদ-নদী ও সাগরে মাছ ধরতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×