সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু
ছবি: সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০১
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে লাইনচ্যুত বগি দুটি সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও সিগন্যালব্যবস্থা মেরামতের কাজ শেষ না হওয়ায় দুই লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মহেড়া রেলস্টেশনের কাছে পৌঁছালে পেছনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এরপরও ট্রেনটি প্রায় আধা কিলোমিটার এগিয়ে স্টেশনের আগে থেমে যায়। এতে ওই অংশের রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে লাইনচ্যুত বগি দুটি রেখেই ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বগি দুটির যাত্রীরা অন্য বগিতে উঠে গন্তব্যের দিকে রওনা হন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
দুর্ঘটনার পর জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেলসংযোগ পথে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রেললাইন ও সিগন্যালব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাশের লাইন দিয়েও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এতে মির্জাপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
রেলওয়ের উদ্ধারকারী ট্রেন বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালানোর পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে লাইনচ্যুত বগি দুটি সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ শেষ হলে দুই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রেলওয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার (বিন্দু) এবং বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী শেখ আসিফ আহমেদ। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছি। রেললাইনের পরিমাপ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ইঞ্জিনের গতি এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
মহেড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগি দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর দুই লাইন দিয়েই ট্রেন চলাচল করা সম্ভব হবে।
- বিষয় :
- ট্রেন চলাচল
- বগি লাইনচ্যুত
- টাঙ্গাইল