ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাড়ি ফেরার পথে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, হাসপাতালে মারা গেলেন বাবাও

বাড়ি ফেরার পথে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, হাসপাতালে মারা গেলেন বাবাও
×
×

নিহত বাবা গোলাপ হোসেন ও তার মেয়ে তোয়াবা আক্তার

মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজদীখান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:১৫

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বাড়ি ফেরার পথে মুখোশধারীদের হামলায় পাঁচ বছরের শিশু তোয়াবা আক্তার নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তার বাবা গোলাপ হোসেনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার রামকৃষ্ণদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে তার বাবার মৃত্যু হয়।

নিহত তোয়াবা আক্তার ও তার বাবা গোলাপ হোসেনের বাড়ি উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে গোলাপ হোসেন তার মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদী এলাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত তার বাবা জয়নাল মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা হামলার শিকার হন।

মুখোশধারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তোয়াবাকেও কুপিয়ে হত্যা করে ইটভাটার পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। গোলাপ হোসেনকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।

পরে গোলাপ হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের পাশে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তোয়াবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শিশুটির নানি তাসলিমা বলেন, প্রতিবেশী সোহরাবের সঙ্গে তার ছেলের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

গোলাপ হোসেনের মা হাসু বেগম বলেন, প্রতিবেশী সোহরাবের পরিবারের সঙ্গে তার ছেলের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপ হোসেন জানিয়েছিলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোহরাবের পাঠানো মুখোশধারী ব্যক্তিরা তার ও তার মেয়ের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন

×