ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কেসিসির ৩৪ কার্যালয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ, বিল নামবে অর্ধেকে

কেসিসির ৩৪ কার্যালয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ, বিল নামবে অর্ধেকে
×
×

 খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ বিল হ্রাস, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব ৩৪টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। প্রথম পর্যায়ে নগরীর ৬, ১০, ১৬ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই চারটি ছাদে ২২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। পর্যায়ক্রমে কেসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি পার্ক ও ৩৪টি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হবে। 

কেসিসির কর্মকর্তারা জানান, কেসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ড কার্যালয়, নগর ভবন ও  নিজস্ব স্থাপনার ছাদে প্রতিদিন এক হাজার ১৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজ শুরু হলে এটি আরও বাড়বে। পরে নগরীর হাদিস পার্ক ও সোলার পার্কেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কেসিসির দুটি পার্ক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পর বাকি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। 

কেসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে নগরীর ১ হাজার ২১৫টি সড়কে ২৮ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে। এর সঙ্গে ৩১টি ওয়ার্ড কার্যালয়, নগর ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা মিলিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। রাজস্ব আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে। সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কেসিসির বিদ্যুৎ বিল অর্ধেকে নেমে আসবে। 

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে কেসিসির সোনাডাঙ্গা সৌর পার্কে দেশের প্রথম ২০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ২০১৪ সালের দিকে সেটি অচল হয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময় নগর ভবনের ছাদ, হাদিস পার্কের পুকুরে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। কেসিসির নিজস্ব ভবনগুলোর ছাদে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব– জানতে গত ২৯ জুলাই কেসিসিকে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ২৮ আগস্ট কেসিসি চিঠি দিয়ে জানায়, ৩৪টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৮ বর্গফুট জায়গা ফাঁকা আছে। এই জায়গায় ১ হাজার ১৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন সম্ভব। কেসিসির আগ্রহ দেখে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কেসিসিকে ৫ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়। এই টাকা দিয়েই সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, প্রথম পর্যায়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকারের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে ৪টি ওয়ার্ড অফিসের ছাদে ২২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। বাকি ৩০টি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। 

আরও পড়ুন

×