তাহসিফ হত্যায় আওয়ামী গুপ্তচর জড়িত কিনা খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: রাশেদ খাঁন
ঝিনাইদহের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: সমকাল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের কোনো গুপ্তচর জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ সদরের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, তাহসিফ সাউরির মাধ্যমেই মানুষ প্রথম জানতে পেরেছিল শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর। শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই দৃশ্য তাহসিফ ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তাহসিফকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। কোনো ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্ত না করে তাকে ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, তাহসিফ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন, যা তিনি তার একটি পডকাস্টে দেখেছেন। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি শেয়ার করার কারণে তাকে নানা ধরনের জবাবদিহির মধ্যে আনা হয়েছিল।
তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়েছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে বন্ধুকে আটক করা হয়েছে, তিনি তাহসিফের সঙ্গেই ছিলেন। তার বন্ধুর কথাবার্তা খুবই সন্দেহজনক। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংস্থা যথাযথ তদন্ত করবে। এই হত্যার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাহসিফ হত্যার পর আওয়ামী লীগের নগ্ন উল্লাস দেখেছি। ফলে তার হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের কোনো গুপ্তচর আছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খতিয়ে দেখবে।’
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে তার কাছে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, সারাদিন ভারতের বিপক্ষে বক্তব্য দেন, আর রাতের বেলায় ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এটা কি আসলে আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতি? এটা কখনোই হতে পারে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ যে রাজনীতি করত, অর্থাৎ ভারতের তোষণ করা, জামায়াত এখন সেই পথেই হাঁটছে। এ কারণেই তারা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছে। বিষয়টি দেশের জনগণ ভালোভাবে নেয়নি।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের খুলনার লং মার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত ঢাকা থেকে লং মার্চ নিয়ে গোপালগঞ্জ আসছে না কেন? তারা কি ভয় পেয়েছে? আওয়ামী লীগকে আপনারা নাকি গুনেনই না, তাদের ছাড়িয়ে নাকি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়ে গেছেন। তাহলে সেই পরীক্ষাটা আপনারা দেন। গোপালগঞ্জে একটি পথসভা করেন।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খুলনা বিভাগকে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে লং মার্চে খুলনা বিভাগের মানুষ জামায়াতকে লাল কার্ড দেখাবে। কোনো সাধারণ মানুষ এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করবে না।