ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পাবনায় ২ নেতাকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পরেও গ্রেপ্তার নেই, হয়নি মামলাও

পাবনায় ২ নেতাকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পরেও গ্রেপ্তার নেই, হয়নি মামলাও
×
×

হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ স্বজনকে ঘিরে আহাজারি। ছবি: ফাইল

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০১ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০১

একই জায়গা, একই কায়দায় আবারও রক্তাক্ত হলো পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজার। এক যুগ আগে যে বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা, সেই একই স্থানে এবার মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল শ্রমিকদল ও শ্রমিক লীগের দুই নেতার। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া বাজারে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন আতাইকুলা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৩৭) এবং পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ও পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম (৫৫)।

ঘটনার পর ঘাটের ইজারাদারের কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিট। পশ্চিম দিক থেকে মুখোশ পরা ছয় ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই দুইজনকে গুলি করে তারা পশ্চিম দিক দিয়েই পালিয়ে যায়। পালানোর সময়ও আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে র্দুবৃত্তরা। তাদের এমন তাণ্ডবে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন হোসেন আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। অপর নিহত আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সালাম পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল ও সভা-সমাবেশে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এলাকাবাসী জানান, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই একই বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল র্দুবৃত্তরা। বহুল আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর একই বাজারে আবারও প্রকাশ্যে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মনে পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে।

চরমপন্থি তৎপরতার জন্য অতীতে পরিচিত আতাইকুলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু একই স্থানে বারবার এমন হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

নিহত আব্দুস সালামের বড় ভাই আব্দুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ২০১৪ সালে চারজন হত্যার ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কারাগারে থাকলেও তার নামেও মামলা দেওয়া হয়। তার দাবি, এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবারকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এদিকে, একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির নেতা আনিছুল হক বাবু। তিনি সমকালকে বলেন, নিহত রিপন গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে নানা ধরনের জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু আশ্রাফ সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। আতাইকুলা অঞ্চল আগে থেকেই চরমপন্থি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে পরিচিত। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে এ অঞ্চলে অপরাধের প্রবণতা কমেছে। পাবনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×