ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় এমপিপুত্র মিন্টু কারাগারে, আটক আরও ২

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় এমপিপুত্র মিন্টু কারাগারে, আটক আরও ২
×
×

শাকিল ইসলাম

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে মিন্টুকে আদালতে হাজির করা হলে নাটোর জজ কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন এ নির্দেশ দেন।

এদিকে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

আটক দুজন হলেন গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা গ্রামের আলামিন হোসেন (২৬) ও কচুগাড়ী এলাকার আনিসুর রহমান (২৫)। শুক্রবার ভোরে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাসেল হোসাইনের অনুসারী বলে জানা গেছে। এমপিপুত্র মিন্টুর সঙ্গে রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে জানা গেছে। 

মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ও নাটোর জেলা ডিবির উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিকেলে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

নাটোর জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, শাকিল হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে
নুরুজ্জামান মিন্টু নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

শাকিলের মৃত্যুর পর ২৬ অক্টোবর রাতে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ২৭ অক্টোবর তাকে শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইতোমধ্যে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় শাকিলকে
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে রাজশাহী হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শাকিল নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ২০ এপ্রিল ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথাও উল্লেখ করেন। তার বাবা রবিউল করিমের অভিযোগ, ছেলে জীবিত থাকতেই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে থানায় জিডি করেছিল। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।

শাকিলের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া
শাকিলের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করেছে জেলা ছাত্রদল। শুক্রবার বাদ জুমা পশ্চিম আলাইপুর জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনসহ বিএনপির নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা দোয়ায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×