সাজেকে এক দিনের জন্য শিথিল হচ্ছে সড়ক অবরোধ
ফাইল ছবি
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২২
পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আগামী রোববার এক দিনের জন্য শিথিল করা হবে। এদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল করতে পারবে। পরদিন সোমবার থেকে আবার আগের মতো অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভেও অবরোধ শিথিলের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, অবরোধের কারণে সাজেকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় পণ্য আনতে পারবেন। কৃষকরাও তাদের বাগানের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন।
পাঁচ দফা দাবিতে ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে– জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে বাইরের এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাজেকের বিভিন্ন দোকানে মজুত চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রায় শেষ হয়ে গেছে। শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যও নিয়মিত আনা যাচ্ছে না। সাজেকের সাপ্তাহিক হাটবাজার– মাচালং, উজোবাজার ও বাঘাইহাটেও স্বাভাবিক বেচাকেনা হচ্ছে না।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের রুইলুই এলাকার ব্যবসায়ী জেসমিন চাকমা সমকালকে বলেন, তাঁর দোকানে মজুত চাল শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় পাশের একটি দোকান থেকে কিছু চাল এনে বিক্রি করেছিলেন। সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে। তেল, ডাল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতও ফুরিয়ে আসছে।
উজোবাজারের মুদি দোকানি জহর লাল চাকমা ও মুকুল চাকমাও তাদের দোকানে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা অজিত চাকমা বলেন, সাজেকে শাকসবজি উৎপাদিত হলেও মাছ ও মাংসের জন্য মূলত দীঘিনালা ও মারিশ্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। অবরোধের কারণে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সংকট বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে সাজেকের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে গুরুতর খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী হরিজয় ত্রিপুরা জানান, সাজেকের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো। কয়েক দিন আগে বাঘাইহাট ও গঙ্গারাম এলাকায় কয়েকজনের হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সেখানে গিয়ে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এদিকে অবরোধের নবম দিন শুক্রবার ও সাজেকে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবরোধকারীরা সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ
যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার অভিযোগ করেন, ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধিরা জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এর পর ওই গোষ্ঠীর সশস্ত্র তৎপরতা বেড়েছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, শুক্রবার সকালে গঙ্গারাম এলাকার উত্তর ভাইবোনছড়া গ্রামে এবং পরে ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে হুমকি ও হয়রানি করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকবাসী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে শুক্রবার সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত সোমবার উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।