ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাগঞ্জের একমাত্র জিপিএ ৫ আরাফাতের, তবু দুশ্চিন্তা

মির্জাগঞ্জের একমাত্র জিপিএ ৫ আরাফাতের, তবু দুশ্চিন্তা
×
×

মো. আরাফাত খান

মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫১

মো. আরাফাত খান তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। দীর্ঘ রোগ ভুগে সে সময় মারা যান বাবা ইসমাইল খান। হঠাৎ যেন মাথার ওপর থেকে বটগাছের মতো বাবার ছায়া সরে যায়। তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। আর্থিক সংকটে যখন জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা, তখন সংসারের হাল ধরেন বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পোশাক কারখানার অমানুষিক শ্রমে রক্ষা করেন সংসার। বোনের সেই লড়াইয়ের প্রতিদানে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন আরাফাত।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৮৫৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র আরাফাতই জিপিএ ৫ পেয়েছেন এবার। তাঁর সাফল্যে পরিবারের পাশাপাশি হাসছে আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে আরাফাত নিজের কৃতিত্বের অনেকটাই দিচ্ছেন বড় বোন রুবি আক্তারকে। তিনি বলেন, ‘বাবাকে হারানোর পর আমার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন নিমিষেই মাটিতে মিশে যায়। ভেবেছিলাম, আমার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন আমার বড় বোন। তাঁর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের উপাখ্যান কখনও ভুলে যাবার মতো নয়। বরং আমার আজকের এই সাফল্য, কেবল তাঁর-ই অবদান।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকের কঠিন কাজ করেও আমার বড় বোন যেভাবে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না। আমার স্বপ্ন ও ইচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা।’ লেখাপড়া করে শিক্ষকতায় আসতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারে অভাব রয়েছে। অর্থাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন যেন থমকে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহায়তা প্রয়োজন তাঁর।

তাঁর বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল আমাকেই ধরতে হয়েছে, পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে হচ্ছে। তাই পোশাক কারখানার মতো কঠিন কাজে যোগ দিতে হয়েছে। চেষ্টা করছি পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আরাফাত মেধাবী ছাত্র; তাঁর জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। আরাফাতের প্রবল ইচ্ছেশক্তিই তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে।’

আরাফাতের এ সাফল্যে ভীষণ আনন্দিত তাঁর প্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিকুর রহমান ছিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘তাঁর সাফল্যে আমি গর্বিত, কলেজ গর্বিত এবং উপজেলাবাসী গর্বিত। পারিবারিক নানা প্রতিকূলতা এবং আর্থিক অভাব জয় করে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে আরাফাত। তাঁর অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও বড় বোনের আত্মত্যাগ, সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে।’

আরও পড়ুন

×