যুবককে পিটিয়ে হত্যা, বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:১৮
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গরু চুরির সন্দেহে এক যুবককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। এদিকে নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের অম্রবাড়ী গ্রামে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রইচ উদ্দিন, নিহতের ভাই রাশেদ, রফিকুল ও শাহিনুরসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, একজন নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
নিহতের ভাই রাশেদ বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ মামলা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভাইয়ের মরদেহ দাফন করা হবে না বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অম্রবাড়ী গ্রামের সামিউল মুন্সির একটি গরু গোয়ালঘর থেকে ছুটে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গরুটি নিয়ে ফুলবাড়ী পৌরবাজারের দিকে যাওয়ার সময় একই গ্রামের মৃত মোস্তফা আলীর ছেলে খোরশেদকে (২৭) আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তাঁকে নাউয়ার মোড় এলাকায় নিয়ে গরু চুরির সন্দেহে মারধর করা হয়।
এ সময় খোরশেদের চাচাতো ভাই রুহুল আমিন মারধরের প্রতিবাদ করলে তাঁকেও এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অন্য চারজন হলেন অম্রবাড়ী গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর ছেলে মহিন আলী (২০), মৃত মোস্তফা আলীর ছেলে খোরশেদ (২৭) এবং তাঁর ভাই রাশেদ ইসলাম (৩০)। তাঁরা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শামিম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য দেশে আইন রয়েছে। কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।’ নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের লোকজন এজাহার দিলেই মামলা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
- বিষয় :
- দিনাজপুর
- পিটিয়ে হত্যা
- বিক্ষোভ