মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের মানুষের সংঘর্ষ
ছবি: সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:৩৪
শেরপুর সদরের চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশে একটি সবজি বাজারে তর্কবিতর্কের জের ধরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় শেরপুর-জামালপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের তৎপরতায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশেই সাতপাকিয়া এলাকায় চরাঞ্চলের কৃষকের সবজি বেচাকেনার জন্য একটি বড় বাজার স্থাপন করা হয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার সবজি কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। সদর উপজেলা প্রশাসন বাজারটিতে খাস কালেকশন করে। যখন যে সরকার আসে তাদের লোকজন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সাতপাকিয়া এলাকার লোকজন বেশ দাপুটে। বাজারে তাদের কথাই শেষ কথা। ফলে মাঝে মধ্যেই বাজার নিয়ে ছোটোখাটো ঘটনা ঘটে।
গত শুক্রবার বাজারে সবজি বহনকারী একটি গাড়ি ডাকপাড়ার এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে ওই ব্যক্তির গায়ে হাত তোলে সাতপাকিয়ার কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। রাতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে সাতপাকিয়ার লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছে। পরে ডাকপাড়ার লোকজন মাইকিং করে গ্রামবাসীকে শেরপুর-জামালপুর সড়কের ব্যাঙের মোড়ে যেতে বলেন। একই সময়ে সাতপাকিয়ার লোকজনও মাইকিং করে গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে বলেন। পরে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু আবার গুজব ছড়িয়ে পড়লে আজ শনিবার সকাল ৬টার দিকে দুপক্ষই ব্যাঙের মোড়ে দেশি অস্ত্রসস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার ও সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষের তৎপরতায় প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়েই সংঘর্ষ শেষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের তিন সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন আজ দুপুরে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন– আজিজ (৩৫) ও সেলিম (৫০)। কয়েকজন জামালপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকের ভাষ্য, বাজারটি খুবই স্পর্শকাতর। সংঘর্ষে সকালে দুই-আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এখন সব স্বাভাবিক আছে।
সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, ভ্যানগাড়ির সঙ্গে এক ব্যক্তির ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তবে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।