ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সন্ধ্যা নদীতে বৈঠার তালে ছুটছে নৌকা, তীরে হাজারো দর্শকের উল্লাস

সন্ধ্যা নদীতে বৈঠার তালে ছুটছে নৌকা, তীরে হাজারো দর্শকের উল্লাস
×
×

সন্ধ্যা নদীতে নৌকাবাইচ

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০২:৩৪ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০২:৩৫

বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝিদের সম্মিলিত জয়ধ্বনি আর কাঁসির আওয়াজে মুখর সন্ধ্যা নদী। নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষের উল্লাস। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ ছোট নৌকা কিংবা ট্রলারে চড়ে উপভোগ করছেন নৌকা বাইচ। রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিদের বৈঠার টানে একে অন্যকে পেছনে ফেলার প্রাণান্তকর চেষ্টা। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালের উজিরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার বিকেলে উপজেলার শিকারপুর এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। বিকেল ৪টায় শিকারপুর বন্দর এলাকা থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামের আটটি সুবিশাল নৌকা অংশ নেয়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতাটি শেষ হয় মেজর এমএ জলিল সেতু (ইচলাদী সেতু) এলাকায়। পুরো পথজুড়ে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, কাঁসির আওয়াজ ও জয়ধ্বনিতে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেক দর্শক ছোট নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে নদীতে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকাগুলোতে রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা গানের তালে তালে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের সম্মিলিত জয়ধ্বনি ও কাঁসির আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজনকে ঘিরে উজিরপুরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসেন। প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীসহ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আয়োজনের পরিকল্পনাকারী ও উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, ‘এই উৎসব শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। নৌকা বাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সুস্থধারার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রতিবছর নৌকা বাইচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ আয়োজন দেখে অন্য এলাকার মানুষও অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস বরিশালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেস্কো আর্থিক সহযোগিতা দেয়।

নৌকা বাইচ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এমএ জলিল সেতু সংলগ্ন ইচলাদী প্রান্তে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ইউএনও মো. আলী সুজার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি ও আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।

আরও পড়ুন

×