ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

খুলনা

এবারও সেই ১০ কলেজে শিক্ষকের চেয়ে পাস কম

এবারও সেই ১০ কলেজে শিক্ষকের চেয়ে পাস কম
×
×

ছবি: সংগৃহীত

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৮

খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের পাশে ২০০২ সালে তৈরি করা হয় মেট্রোপলিটন কলেজ। নিজস্ব ৪১ শতক জমিতে কলেজটিতে বহুতল ভবন রয়েছে, আছেন ২৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ৪৯ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১০ জন। সরকারি বেতনভুক্ত ২৯ শিক্ষক গড়ে দুই ছাত্রকে পড়িয়েও পাস করাতে পারেননি। এর আগের বছর ৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন মাত্র ছয়জন। 

একই অবস্থা নগরীর মহেশ্বরপাশার শহীদ জিয়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের। ৩৯০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কলেজটি শিক্ষক রয়েছেন ২০ জন। কলেজটি থেকে এবার ৫৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৯ জন। এই কলেজেও এমপিওভুক্ত ২০ শিক্ষক মিলে সমান সংখ্যক শিক্ষার্থীকেও পাস করাতে পারেননি।

শুধু এই দুটি কলেজ নয়; শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক বেশি হওয়ার পরও পরীক্ষার ফলে বিবর্ণ চিত্র খুলনার বেশির ভাগ বেসরকারি কলেজ। এসব কলেজে শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও পাসের হার কম। খুলনার ১০টি কলেজের শিক্ষকের চেয়ে পাসের হার কম নিয়ে চলতি বছর অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল।

ওই সংবাদে দেখানো হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির কারণে প্রতিটি কলেজের প্রয়োজনের চেয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে বেশি। নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তার করে দুই কিলোমিটারের মধ্যে চার কলেজ প্রতিষ্ঠার তথ্যও উঠে আসে। এসব কলেজের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগই সরকার দেয়।

পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও সঠিক তদারকি না থাকায় কলেজগুলোতে শিক্ষার মান বাড়েনি। যার কারণে প্রতিবছর কলেজগুলোতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করছেন। শিক্ষকদের জবাবদিহির সংস্কৃতি না থাকায় ফল ভালো করতে কলেজগুলোর প্রচেষ্টা দেখা যায় না। সংবাদ প্রকাশের পর যশোর শিক্ষা বোর্ড ও কলেজগুলোর লেখাপড়ার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে গত শনিবার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে সেই পুরোনো চিত্র।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর বানরগাতির সিটি গার্লস কলেজ থেকে এবার ৩৯ ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৩ জন। কলেজটির ২৫ শিক্ষক সমসংখ্যক ছাত্রীকে পাস করাতে পারেননি। গত বছর কলেজটি থেকে ৪৯ জন অংশ নিয়ে ২৬ জন পাস করেছিলেন। 

নগরীর বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি ৪২ শিক্ষক রয়েছেন খুলনা কলেজে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৫ অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩০ জন। গত বছরও কলেজটি থেকে ১১২ জন অংশ নিয়ে ৩০ জন পাস করেন। কলেজটিতে যতজন শিক্ষক আছেন, তার চেয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। 

নগরীর সোনাডাঙ্গায় মেট্রোপলিটন কলেজের আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আইডিয়াল কলেজ। এ বছর কলেজটি থেকে ৮৩ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৮ জন। গত বছর পাস করেছিলেন ৯ জন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন। 

নগরীর দৌলতপুরের মুহসিন মহিলা কলেজ থেকে ২৯৬ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৫৪ জন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩৩ জন। রায়ের মহল কলেজে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৪১ জন। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন ২৩ জন। কলেজটি থেকে ১০৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৫ জন পাস করেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চেয়ে পাস কম।

নগরীর হাজী মালেক ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৪১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৬ জন পাস করেন। কলেজটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩৩ জন।

নগরীর বয়রার ইসলামিয়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩৯ জন। সেখানে ১৪১ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৬ জন পাস করেছেন। শিক্ষক ও পাসের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ২০২৫ সালে ১৮৫ অংশ নিয়ে ৩৫ জন পাস করেছেন। অথচ কলেজটি এমপিওভুক্ত শিক্ষকই রয়েছেন ৩৬ জন। 

শিক্ষকের চেয়ে কম পাসের কারণ জানতে চাইলে বেশির ভাগ কলেজের অধ্যক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়াকে দায়ী করেছেন। আবার অনেকে নিজেদের ভুলত্রুটি দূর করে আগামীতে ভালো করার চেষ্টার কথা বলেছেন।

শহীদ জিয়া কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রতিবছর এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে আমাদের পেছনে। আমি শিক্ষকদের বলেছি, এক বছরের মধ্যে এই ফল পাল্টে দিতে হবে। সেজন্য যা যা করা দরকার, আমরা করব।

খুলনা কলেজের অধ্যক্ষ এইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি দায়িত্ব পেয়েছি সাত মাস। তাতেই গতবারের চেয়ে ফল কিছুটা ভালো হয়েছে। আমরা আরও ভালো করার চেষ্টা করছি।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম বলেন, কলেজগুলোর লেখাপড়ার মান বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×