মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায় লাখ টাকা
ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হাতুড়িপেটা
প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর অফিস ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪০ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪১
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছিলেন বাহাউদ্দিন শেখ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। আজ সোমবার সকালে তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলেই মারধর করা হয়। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক লাখ টাকা আদায় করে অচেতন অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
জেলার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ থেকে বাহাউদ্দিন শেখকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছিলাধরচর মহল্লার বাসিন্দা। বাহাউদ্দিন শেখ মিডল্যান্ড ব্যাংকের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর শাখায় কর্মরত।
চিকিৎসাধীন বাহাউদ্দিন শেখ জানান, কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য গতকাল সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। চালক তাঁকে যাত্রী হিসেবে ঢাকা যাওয়ার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া গাড়িতে আরও তিনজন নিজেদের যাত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়। তিনি গাড়িতে ওঠার দেড়-দুই মিনিট পরই মুখ বেঁধে মারপিট শুরু করে ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি। এ সময় তারা বাহাউদ্দিন শেখকে নিজের প্রয়োজনের কথা বলে স্বজনের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আনতে বলে। এ সময় মারধরের পাশাপাশি হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয় তাঁকে।
বাহাউদ্দিনের ভাষ্য, গাড়িটি প্রথমে ঢাকার দিকে কিছু দূর গিয়ে পুনরায় ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দিকে যায়। গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে কিছুক্ষণ চলতে থাকে। তিনি স্বজনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দুর্বৃত্তদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পৌঁছানোর পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে যায়। এ সময় বাহাউদ্দিন শেখের মোবাইল ফোনের সিমও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তাঁর চাচাতো ভাই সোহাগ শেখ বলেন, ‘বাহাউদ্দিনকে জিম্মি করে আপনজনের কাছে ফোন করা হয়। আমরা এক লাখ টাকা বিকাশ করে দিই।’
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বাহাউদ্দিন শেখের বুক, হাত ও পায়ে পেটানোর একাধিক চিহ্ন রয়েছে। তাঁর ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
- বিষয় :
- ফরিদপুর