যশোরে ‘বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক’ প্রকাশ হওয়ার ভয়ে জোড়া খুন, বলছে পুলিশ
জেসমিন বেগম ও মোস্তফা কামাল
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫১ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮:০৩
যশোরের কেশবপুরে আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ‘বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। নিহত দম্পতি হলেন মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।
পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, জেসমিন ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।
মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে মাজেদার সঙ্গ ছেড়ে অন্যত্র ঘাস কাটতে যান জেসমিন। সেখানে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কলমি শাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তাঁর স্বামী আলেককে নুর ইসলামের ঘেরের পাশে নিয়ে যান।
তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো স্যালো মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনও শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তাঁর তলপেট ও পা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাঁকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- যশোর
- হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
- গ্রেপ্তার
- পরকীয়া
- কেশবপুর