জাবিতে তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের উদ্ধার করল ছাত্রদল
তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের উদ্ধার করেন ছাত্রদলের নেতারা
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৮
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্যদের উদ্ধার করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, এদিন বিকেল ৫টার দিকে বিশেষ সিন্ডিকেট সভা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে তালা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের ইন্সটিটিউটের পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। বিশেষ করে এ মুহূর্তে সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হককে দিলে বিভাগের জন্য ভালো হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। এবং তাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আমরা চাই, সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হককে যদি না দেওয়া হয় তাহলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি যিনি আমাদের বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাকে দেওয়া হোক। তবুও আমরা দর্শন বিভাগের কাউকে চাই না।’
এ বিষয়ে দাবি জানিয়ে ওইদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেন তারা।
এ দিকে তালা ভাঙায় নেতৃত্ব দেওয়া শাখা ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ বর্তমানে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে তারা জানান। এছাড়া, তালা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।