আলোচনা সভায় বক্তারা
বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধারে দরকার আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০০:১৪
কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালীর অবদান বহুমাত্রিক। এ নদীর দু’পারে অবস্থিত উপকূলীয় বনের সবুজ বেষ্টনী আশেপাশের জনবসতিকে রক্ষা করে আসছিল সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। এ নদীতে একসময় প্রচুর পরিমাণে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু দখল আর দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ নদীটি। তাই বাকঁখালীকে এ সংকট থেকে পুনরুদ্ধারে দরকার উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক সদিচ্ছা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী বাঁকখালী দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা এবং উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত বাঁকখালী নদী: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।
বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুল রহমান, কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বেলার লিগ্যাল কোঅর্ডিনেটর এস. হাসানুল বান্না।
সভায় পরিবেশকর্মী শান্তনূর বলেন, বাকঁখালী নদীর কস্তুরা ঘাটে প্যারাবন কেটে দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করা হলেও, প্যারাবন আর ফিরে আসেনি। প্যারাবন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি সুনীল বড়ুয়া বলেন, বাঁকখালী নদীর রামু চেংরাঘাটা অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। সঙ্গে চলছে তামাক চাষ। বালু উত্তোলন ও তামাক চাষ বন্ধের অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদকর্মী সৌরভ দেব বলেন, অবৈধ দখলদারদেরকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বৈধতা দেয়। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করাসহ এসিল্যান্ড অফিস কর্তৃক খাজনা নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, এই মুহূর্তেই বাঁকখালি নদীর সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, নয়তো সমস্যাগুলো সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, নদীর দূষণমুক্ত পানি যেমন মানুষের প্রয়োজন; ঠিক তেমনি ফসল উৎপাদন করতেও প্রয়োজন। তাই বাঁকখালী নদী দূষণমুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, বাকঁখালী নদীতে ৩৫ প্রজাতির মাছ, ১০ প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে। নদীকে দূষণমুক্ত না করতে পারলে এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে অচিরেই। তরল বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে দূষিত করছে, যার প্রভাব আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলেও পড়ছে। তিনি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমান কক্সবাজারে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা নদী দখল-দূষণ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
সভার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবসৃষ্ট বিপযর্য়ের জ্বলন্ত উদাহরণ এ নদী। নদী রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে জনপরিসরে ব্যাপকভাবে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি যেসব জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছিল সেগুলো যথাযথ সংরক্ষণের তাগিদ দেন। বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত ও এর নাব্যতা ফিরে না আসলে শহরে জলাবদ্ধার মতো নানা রকম ঝুঁকির আশঙ্কা করেন তিনি।
- বিষয় :
- কক্সবাজার