ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

অ্যাপ্রনের পরিবর্তে সাদা কফিনে দেশে ফিরবে মেডিকেলছাত্র আদনানের স্বপ্ন

অ্যাপ্রনের পরিবর্তে সাদা কফিনে দেশে ফিরবে মেডিকেলছাত্র আদনানের স্বপ্ন
×
×

আদনানের মৃত্যুতে মায়ের আহাজারি। ছবি: সমকাল

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৫ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩২

বুকভরা স্বপ্ন আর স্টেথোস্কোপ গলায় ঝোলানোর বাসনা নিয়ে ভারত থেকে কুমিল্লায় এসেছিলেন আদনান। গায়ে জড়ানোর কথা ছিল চিকিৎসকদের প্রতীক সাদা অ্যাপ্রন। কিন্তু পরিবারের সেই স্বপ্ন আদনানের নিথর দেহ বুধবার রাতে রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) হিমঘরে। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে দুই-এক দিনের মধ্যে স্বজনরা তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা। 

আদনান আলতাফ রাথার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (ইএমসি-১৪ ব্যাচ) ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার সকালে কলেজ-সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আদনান ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া দাঙ্গালপাড়ার আলতাফ হোসেন রাথারের ছেলে।

এদিকে, ভারতীয় নাগরিক এই মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলেজ ক্যাম্পাসে। সকালে যখন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় তখন তার মা কলেজ ক্যাম্পাসেই ছিলেন। গত ৩০ অক্টোবর মা নিগাদ বেগম অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে এবং তার মা কলেজের ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তার বুকফাটা কান্নায় কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম সমকালকে বলেন, আদনান পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় দুই বছর পিছিয়ে ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এর ফলে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তার বাবা একবার বাংলাদেশে এসে প্রায় দেড় বছর তার সঙ্গে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তার বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। এ কারণে কলেজ ক্যাম্পাসে তার মায়ের সঙ্গে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। 

শাহ সেলিম আরও বলেন, আদনানের মৃত্যুর বিষয়টি চট্টগ্রাম ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। মরদেহ ঢামেকের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক শিক্ষক রাজীব আশ্রাফ বলেন, আদনান কলেজের ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে অনিয়মিত হওয়ায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত লেখাপড়া করতে পারেননি। পরে তিনি দেশে চলে যান। বাড়িতে চিকিৎসা শেষে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে এসে হঠাৎ তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে, গতকাল বুধবার সকালে কলেজের পাশের একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন মা মঙ্গলবার রাতে থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। 

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান রাতে সমকালকে বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর পুলিশ প্রহরায় মরদেহ ঢামেকের হিমঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওসির ভাষ্য, ‘রাতে আদনান কেন ওই জলাশয়ের কাছে গেলেন, তার সাথে কেউ ছিলেন কী-না। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অন্য কোনো কারণ আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

×