ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড় আতর-সাবান ও গলাকাটা মুরগি, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড় আতর-সাবান ও গলাকাটা মুরগি, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক
×
×

ধামরাইয়ের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় বাড়ির প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে রাখা হয় কাফনের কাপড়, আতর-সাবান ও গলাকাটা মুরগি। ছবি: সমকাল

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:১৮

ঢাকার ধামরাইয়ের একটি গ্রামের তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল গ্রামের এসব বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ওই তিন পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির ফটকের গ্রিলে একটি পলিথিনের ব্যাগ ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়ে ব্যাগের ভেতরে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশী ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়ার বাড়ির ফটকেও একই ধরনের সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে তার বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছিল। সেই ঘটনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তিনি। আগুনের ঘটনার পর যারা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের বাড়িতেও এবার একই ধরনের সামগ্রী রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমি কেনাকে কেন্দ্র করে মুঠোফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কেন ওই জমি কিনেছেন, তা জানতে চেয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির ফটকে ব্যাগ ঝুলতে দেখে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। তখন বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পাননি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান। পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ তাদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।

সেন্টু মিয়া বলেন, এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনার পর তিনটি পরিবারের পাশাপাশি পুরো গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ধামরাই থানায় গিয়ে লিখিতভাবে পুলিশকে অবহিত করেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×