ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

রাজশাহীতে কৃষিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বললেন, সার সংকট নেই

এমপি চাঁদ বললেন, ‘সার নাই নাই, খাই খাই অবস্থা’

রাজশাহীতে কৃষিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বললেন, সার সংকট নেই
×
×

 রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে কৃষিমন্ত্রীর সামনে বিভাগের আট জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তারা সার সংকট নেই বলে দাবি করলেও রাজশাহী-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদ বলেছেন তীব্র সার সংকটের কথা। গত বুধবার সন্ধ্যার পর বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আট জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। তারা সবাই বলেছেন, কোথাও সার সংকট নেই। সব ফসল ভালোভাবে হচ্ছে।

এরপর রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি কৃষকের ছেলে, নিজেও কৃষক। সব ফসলই করি। এবার আলু আর পেঁয়াজ খুব কম হবে। এই দুটি ফসল না হলে পেঁয়াজের ভর্তুকি দিয়ে আবারও বিদেশ থেকে আনতে হবে। আপনারা সারের কথা বললেন, সার কিন্তু নাই নাই, খাই খাই অবস্থা। অনেক ডিলার বলতে চাইছে, কিন্তু বলতে গিয়ে বলেননি। সারের সমস্যা এখনও আছে। আমরা লোক পাঠালে সেখানে সার থাকছে না। সারের সমস্যা এখনও আছে। এটা উনাকে (মন্ত্রীকে) খুশি করার জন্য আজকে অনেকে বলেছেন।’

তবু কৃষিমন্ত্রী বললেন, সার সংকট নেই
এরপর কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘সার বরাবরই আমাদের এখানে কোনো ক্রাইসিস ছিল না, এখনও নেই, আগামীতেও ক্রাইসিসের শঙ্কা নেই। একেবারে জিরো পার্সেন্ট আমি স্পষ্টভাবে বলে দিলাম। গত বছর আমার এখানে সার যেখানে যে পরিমাণ থাকার কথা, এই সময়ে এর থেকে বর্তমান সরকারের কাছে ৩৫ শতাংশ বেশি আছে।

সার পাচাররোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকোপার্কে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় সার পাচার ও অপচয় রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রতিবেশী দেশে সারের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে পাচারের শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। মন্ত্রী জানান, দেশে ইউরিয়া সারের সংকট নেই। বছরে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভর্তুকির কারণে দু-এক ধরনের সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে একজন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকে নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হবে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সার বরাদ্দ। আগামী মৌসুমে সারের সংকট থাকবে না।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানের অব্যবহৃত জায়গায় আদা চাষ করা গেলে কৃষকরা একই জমি থেকে বাড়তি ফসল পাবেন। 
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
নীতিমালার বাইরে ডিলার নিয়োগ হলে ব্যবস্থা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, নীতিমালার বাইরে কাউকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে সে বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। হোসেনডাঙ্গা এলাকার আতিক উদ্দিনের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত পরিদর্শন এবং বিলবৈটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর বাগান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

×