আজমিরীগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনের কার্যক্রমের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা। যদিও পৌর কতৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত মশা নিধন র্কাযক্রম পরিচালনা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাওড়বেষ্টিত অঞ্চলটিতে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর পৌরসভাজুড়ে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও মশা নিধনে কার্যকর কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সেখান থেকে মশার উপদ্রব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, দিন দিন মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। তবুও পৌরসভার পক্ষ থেকে তা নিধনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সন্ধ্যা তো দূরের কথা, এখন দিনের বেলাতেও ঘরে টিকে থাকা দায়।
কলেজছাত্র রকিবুল হাসান জানান, পৌর এলাকার আনাচে-কানাচে ময়লা আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। সেখান থেকে মশা জন্ম নিচ্ছে। যদি সময়মতো ময়লা আবর্জনা ও স্তূপে জমে থাকা পানিতে স্প্রে করা যেত তা হলে হয়তো মশার উপদ্রব কিছুটা কমতো।
ব্যবসায়ী সেন্টু মিয়া বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে এত হইচই অথচ পৌরসভায় মশা নিধনের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। পৌরসভার পক্ষ থেকে যদি এখনই ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো না হয়, তবে ডেঙ্গু মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে।
গৃহিণী তাসলিমা আক্তারের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর বাচ্চাদের পড়তে বসালে মশারি দিতে হয়; নইলে মশার দাপটে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পরে। রাহিমুল মিয়া নামের অন্য এক বাসিন্দা বলেন, মশা নিধনে সরকারের আলাদা বাজেট রয়েছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে এত উদাসীন কেন বোধগম্য হচ্ছে না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা এবং এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। পৌর এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শুধু রাজধানীতে থাকলেই ডেঙ্গু হতে পারে এমন ধারণা ঠিক নয়। মফস্বলে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগও জরুরি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমরা নিয়মিতই মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।’
- বিষয় :
- ডেঙ্গু