সাফারি পার্ক
নীলগাই পরিবারে চার অতিথি
গাজীপুর সাফারি পার্কে নতুন অতিথি। গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল
ইজাজ আহ্মেদ মিলন, গাজীপুর
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৩ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বনের সবুজ ছায়ায় মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে চারটি শাবক। কখনও বনজুড়ে ছোটাছুটি, আবার কখনও মায়ের পাশে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম। তবে আশপাশে মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই সতর্ক মা নীলগাই। মুহূর্তেই শাবকদের নিয়ে ছুটে যায় বনের অন্য প্রান্তে। গাজীপুর সাফারি পার্কের কোর সাফারিতে এখন এমনই দৃশ্য চোখে পড়ছে।
পার্কে থাকা নীলগাইয়ের পালে দুটি মাদি নীলগাইয়ের ঘরে জন্ম নিয়েছে চারটি শাবক। প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম তাদের বিচরণ নজরে আসে পার্ক কর্তৃপক্ষের। শুরুতে বনের ভেতর মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেলেও শাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জন্ম নেওয়া চার শাবকের তথ্য গণমাধ্যমকে জানায় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
সাফারি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ছায়ায় সতর্ক অবস্থায় বিশ্রাম নিচ্ছে শাবকগুলো। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মা নীলগাই। তার চোখে-মুখে সতর্কতা। শাবকদের আশপাশে কারও উপস্থিতি টের পেলেই যেন তাদের আগলে রাখার প্রস্তুতি নেয় সে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, দেড় মাস আগে কোর সাফারির হরিণ সাফারিতে নীলগাইয়ের সঙ্গে চারটি নতুন শাবককে বিচরণ করতে দেখা যায়। এর পর থেকেই শাবকগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তাদের দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুটি নীলগাই এ চারটি বাচ্চা দিয়েছে।
তিনি বলেন, শাবকগুলোর মাদি না পুরুষ, তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। শাবকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাছাকাছি গিয়ে লিঙ্গ নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়নি। নীলগাই এশিয়ার সবচেয়ে বড় অ্যান্টিলোপ বা হরিণ জাতীয় তৃণভোজী প্রাণী। এদের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ। ভারত ছাড়াও পাকিস্তান ও নেপালের কিছু এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে এদের বিচরণ রয়েছে। তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও নীলগাই দেখা যেত।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন সময়ে দেশের সীমান্তর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করা নীলগাই গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। পরে সেখানে কয়েকটি শাবকের জন্ম হয়। সর্বশেষ পার্কে নীলগাই ছিল ১১টি। এর মধ্যে দুটি কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন চার শাবকের জন্মের পর এখন গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।
নীলগাইয়ের বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এদের দেহের গঠন ও রঙের কারণে নীলগাই সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ নীলগাইয়ের শরীর নীলচে-ধূসর রঙের। অন্যদিকে, স্ত্রী নীলগাই ও শাবকের রং সাধারণত বাদামি বা হলদেটে। পুরুষ নীলগাইয়ের মাথায় ছোট শিং থাকে, তবে স্ত্রী নীলগাইয়ের শিং থাকে না। এরা সাধারণত ঘাস, লতাপাতা, গুল্ম ও বিভিন্ন উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। খোলা তৃণভূমি, ঝোপঝাড় ও ছড়ানো গাছপালার বন এদের পছন্দের আবাসস্থল।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রজননের ক্ষেত্রে সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের এই নতুন চার শাবকের জন্মকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মায়ের সুরক্ষায় বনের পরিবেশে বেড়ে উঠছে শাবকগুলো। তাদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারিও রাখছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নীলগাইয়ের প্রজননক্ষমতা বাড়ে। একই জাতের প্রাণীর সংখ্যা যদি একসঙ্গে বেশি থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পায়, তাহলে এদের মন প্রফুল্ল থাকে।
- বিষয় :
- গাজীপুর