ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাশেদ খাঁন

সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাশেদ খাঁন
×
×

ছবি: সমকাল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৫

আদালত প্রাঙ্গণে সমকালের সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, একজন তথাকথিত তারকা যেভাবে সাংবাদিক রাজুর সঙ্গে কথা বলেছেন, তা কোনো মানুষের ভাষা হতে পারে না। রাজু একজন অমায়িক সাংবাদিক। তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার হওয়া উচিত।

শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে সায়াদাতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। এর আগে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

সাংবাদিক রাজুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় একজন সাংবাদিক হিসেবে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা রাজু দেখিয়েছেন। ওই সময় রিমান্ড শেষে নুরুল হক নুরকে আদালতে তোলার কথা ছিল। তখন বৃষ্টি শুরু হয়। তাকে লিফটে তোলার সময় সেখানে দুই সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন ছিলেন সমকালের রাজু।

রাশেদ খাঁন বলেন, ওই সময় রাজু নুরুল হক নুরকে আন্দোলন নিয়ে কোনো বার্তা আছে কিনা, জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে নুর বলেছিলেন, শেখ হাসিনার পতন ৯০ শতাংশ হয়ে গেছে, বাকি ১০ শতাংশের জন্য ধাক্কা দিতে হবে। ওই সময়ের বাস্তবতায় এই বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষকে কতটা সাহস জুগিয়েছিল, তা সবাই জানেন। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্নটি করেছিলেন সাংবাদিক রাজু।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘এই ধরনের তথাকথিত তারকারা সমাজকে কলুষিত করছে, নষ্ট করছে এবং বিপথগামী করছে। নাম নিতেও রুচিতে বাধে। অন্যায়-অপরাধ জাতির সামনে তুলে ধরছেন সমকালের সাংবাদিক রাজুরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় একজন সাংবাদিক হিসেবে কীভাবে ভূমিকা রাখতে হয়, সেটি রাজু দেখিয়েছেন। তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা।’

রাজুকে যেভাবে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়েছে, তার বিচার দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম ওয়াজেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদ জোয়ার্দ্দার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত-এনসিপির জোট নিয়েও মন্তব্য
এদিকে জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দল দুটির আদর্শ তেল ও জলের মতো। একটি আরেকটির সঙ্গে মেশে না। ফলে তাদের একসঙ্গে রাজনীতি করাও সম্ভব নয়।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে নতুন দল হিসেবে সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নিতে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল। তবে এই জোট মেনে নিতে না পেরে ডা. তাসনিম জারার মতো তরুণ নেতারা দল ছেড়েছেন। সম্প্রতি সামান্তা শারমিনও এনসিপি থেকে বের হয়ে গেছেন। জামায়াতের সঙ্গে জোট অব্যাহত থাকলে আরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে পারেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের জোট থেকে বের হয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের নেতারা একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন। এসব ঘটনায় অভিযোগ সামনে এলেও দলটি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে আদর্শের বাইরে গিয়ে চলতে থাকলে জামায়াত ধ্বংস হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি অডিও রেকর্ড তার কাছে এসেছে এবং সেটি যাচাই করে সত্যতা পেয়েছেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

আরও পড়ুন

×