ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মামলা হয়নি, তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

মামলা হয়নি, তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ
×
×

তরিকুল ইসলাম শেখ

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার ডুমুরিয়ায় বিএনপির নেতার ছেলে তরিকুল ইসলাম শেখকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই তিনজনকে আটক করে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলেও ঘটনাস্থল থেকে পেয়েছে রিভলবারের গুলির দুটি খোসা।

নিহত তরিকুল ইসলাম শেখ উপজেলার রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম শেখের ছোট ছেলে। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তরিকুল একই ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে জোড়া বটতলার একটি দোকানে এক বন্ধুর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরে পালসার মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি সেখানে আসেন। একজন তরিকুলের সঙ্গে গল্প জমিয়ে তোলেন। অপরজন হঠাৎই পেছন থেকে তরিকুলের মাথা ও বুকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান। সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান তরিকুল।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা খুলনার শাহাপুর-দৌলতপুর সড়ক দিয়ে মোটসাইকেলে উপজেলা রামকৃষ্ণপুর গ্রামে ঢোকে। হত্যার পর থুকড়া-রংপুর গ্রামীণ সড়ক ধরে শলুয়া বাজারের দিকে যায়। পরে তারা আবারও শাহাপুর-দৌলতপুর সড়ক ধরে চলে যায়। 

তরিকুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, শুক্রবার আসরের নামাজের পর তাঁর ভাইয়ের জানাজা হয়েছে। পরে রঘুনাথপুর থুকড়া গ্রামের শেখ বাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজায় অংশ নেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগার লবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোল্লা মোশাররাফ হোসেন মফিজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সরোয়ার হোসেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাবা আব্দুস ছালাম শেখের ভাষ্য, ঘটনার দিন খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানেই ছেলেকে গুলি করে হত্যার খবর পান। তিনি জানিয়েছেন, বিলডাকাতিয়ার উত্তর বিলে ৪২ বিঘা অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করতেন তরিকুল। স্থানীয় কিছু লোক তাঁর (তরিকুল) কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তবে কারা চাঁদা চাইত, এ সম্পর্কে তরিকুল পরিবারের কারও সঙ্গে আলাপ করেননি। পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করবেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সরোয়ার হোসেনের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামে ছিলেন। ফলে এলাকা প্রায় পুরুষশূন্য ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অজপাড়াগাঁয়ে এসে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কিত।
ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি রিভলবারের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় তিনজনকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন– মমিন গাইন (২৫), সাদিক হোসেন (২২) ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তাদের সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়নি। খুনিদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×