এক সপ্তাহেও জেলেকে গুলির উৎস জানাতে পারেনি পুলিশ
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের হিজলা উপজেলা-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে গুলিতে জেলে আকতার হাওলাদার (৪০) হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তদন্তে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে– অজ্ঞাতপক্ষের রাবার বুলেটে তিনি নিহত হন। তবে ঘটনার সময় দিনের আলো ছিল, মেঘনায়ও ছিল অসংখ্য জেলে নৌকা, তারপরও পুলিশ গুলিবর্ষণকারীকে শনাক্ত করতে না পারা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে।
নিহত আকতারের সঙ্গী জেলেরা দাবি করে আসছেন, চাঁদপুর নৌ পুলিশের টহল দল এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিল। এতে আকতার নিহত হন। তবে পুলিশের ভাষ্য, তারা এ বিষয়ে ক্লু পায়নি। আকতারের পরিবারও অজ্ঞাত কারণে মামলা করেননি। এমনকি দুটি বড় সংগঠন জাতীয় মৎসজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতারাও বিষয়টি নিয়ে নীরব। সংগঠন দুটি দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তারা অজানা হয়রানির আশঙ্কার কথা জানান।
আকতার হাওলাদার উপজেলার চরমেমানিয়া গ্রামের সুজন হাওলাদারের ছেলে। গত ২৯ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে মেঘনা নদীর ওরাকুল এলাকায় মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ইলিশ আহরণে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় সেদিন ছিল শেষ দিন।
আকতারের সঙ্গী জেলে আব্দুল বেপারীর ভাষ্য, নৌকায় ১৩ জেলে ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে। ফজরের আজানের কিছুক্ষণ পর একটি ট্রলারে একদল পুলিশ এসে গুলি করেছে। এতে আকতারসহ কয়েকজন জেলে গুলিবিদ্ধ হন। বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অন্য জেলেদের অভিযোগ, হামলা করেছে চাঁদপুর নৌ পুলিশের টহল দল। তারা একই সময়ে অন্য ট্রলার থেকে কয়েকজন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিভাগের কর্মকর্তারাই মেঘনার ওই এলাকায় সেদিন অভিযানে যাওয়ার কথা স্বীকার করেননি।
মামলা করেননি পরিবার
এ ঘটনায় আকতারের পরিবার থেকে মামলা করা হয়নি। গতকাল শুক্রবার সমকালকে নিশ্চিত করেছেন হিজলা থানার ওসি সোলায়মান হোসেন।
আকতারের স্ত্রী জাহানারা বেগমের ভাষ্য, মৃত্যু যেভাবে কপালে লেখা ছিল, সেভাবে হয়েছে। তারা কোনো মামলায় যাবেন না। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত চাঁদপুর নৌ পুলিশ গুলি করে আকতারকে হত্যা করেছে। জেলেরা গরিব, হয়রানির ভয়ে তারা মুখ খুলছেন না।’
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বরিশাল পুলিশ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুলাদী সার্কেল) তারেক আমান বান্না বলেন, এটা নৌ পুলিশের তদন্তাধীন বিষয়। নিহতের পরিবার চাইলে মামলা করতে পারে। নৌ পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লার ভাষ্য, প্রতিবেদন তারা দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
- বিষয় :
- গুলি