ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, প্রসূতি পেলেন এক নবজাতক

আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, প্রসূতি পেলেন এক নবজাতক
×
×

 নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর নবজাতকের কী হয়েছে, এর কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাবা শান্ত ইসলাম। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। 
শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেই যমজ জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। অথচ অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশুকে দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

তাঁর ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষার প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেখানে উভয় ভ্রূণের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা বলা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃৎস্পন্দন যথাক্রমে প্রতি মিনিটে ১৪৬ ও ১৪০ বার উল্লেখ করা হয়। সম্ভাব্য ওজন দেখানো হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম।
শান্ত ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রী শান্তনা আক্তারকে বলাকা ক্লিনিক নামে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যদের একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। কিন্তু অপর সন্তানটির বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
প্রসূতি শান্তনা আক্তার অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের লোকজনের কাছে তারা জানতেন, তাঁর গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁর পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শান্তনা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তারা আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ফেলে রাখে। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং বলে, তাদের কথা না শুনলে এ অবস্থায় রেখেই চলে যাবে। পরে আমার শরীরে কাঁপুনি শুরু হলে আমি বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাই করেন। এর পর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।’
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।  
বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘সন্তান একটি না দুটি হয়েছে, তা ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নবজাতকের বাবা নিজে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×