ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্বশুর বাড়িতে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্বশুর বাড়িতে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
×
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২১ | ০৭:০৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের ছুটিতে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে সাইফুল ইসলাম বিপুল (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিপুলের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বললেও বিপুলের পরিবারের অভিযোগ এটি পরিকল্পিত হত্যা। গত ১৭ মে রাত সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের শিমরাইলকান্দির পাওয়ার হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে। বিপুল নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকার সামছুল আলমের ছেলে।

নিহত বিপুলের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের ছাত্র খায়রুল আলম বলেন, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ওই নারীকে বিয়ে করেন তার ভাই। কিন্তু বিয়ের পরে একটি ছেলের সঙ্গে ভাবির সম্পর্ক থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে ভাই-ভাবির মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। গত ৭ মার্চ ভাবির মোবাইলে ওই ছেলের ম্যাসেজ পাওয়া গেলে পরদিন ভাবি ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসা থেকে চলে যান। এ ঘটনার পর আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার অভিভাবকদের একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছিল তাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসার জন্য। তারা আমার ভাইকে তাদের বাড়িতে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধেই আমরা ভাইকে ঈদের আগে গত ১১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠিয়েছিলাম।

নিহতের স্ত্রীর দাবি- ঘটনার দিন তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা আখাউড়ায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে আসার পর রাতে ছাদে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। খাবারের জন্য অন্যরা একে একে নিচে নেমে আসলেও বিপুল আরও কিছুক্ষণ ছাদে থাকতে চেয়েছিলেন। বিপুলকে ছাদ থেকে তাড়াতাড়ি নামানোর জন্য তার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে তিনি নামার জন্য সিঁড়িতে পা দিতেই চিৎকার শোনেন এবং ফিরে দেখেন বিপুল রেলিংয়ে নেই।

ওই নারী আরও বলেন, বিপুল দুই পাশে পা দিয়ে রেলিংয়ে বসে ছিলেন। ছাদের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বিপুল পাশের বাসার এক তলার ছাদে গিয়ে পড়েন। অসাবধানতাবশত তিনি ছাদ থেকে পড়ে যেতে পারেন।

একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি বলেন, কলেজে পড়ার সময় একটি ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। অনেক দিন পর ওই ছেলে গত ৭ মার্চ একটি ম্যাসেজ পাঠালে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এ সময় সে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এ কারণে গত ৮ মার্চ একা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে আসেন তিনি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারে পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×