ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে আলোচনা সভায় বক্তারা

প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার তাগিদ

প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার তাগিদ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪০

প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, বিশেষ করে রাসায়নিক, কৃষি ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উৎসাহিত করতে নাটোরে আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার নাটোর স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ২ হাজার ১৮০ কেজি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত প্রকল্পটিতে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও) কারিগরি সহায়তা এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) আসমা খাতুনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার।

আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও)- এর ন্যাশনাল এক্সপার্ট এস এম আরাফাত, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, রোভার স্কাউটস, বিডি ক্লিনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অংশীজনরা অংশ নেন। এ ছাড়া নাটোর পৌরসভার প্রশাসক শামীম হোসেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নাটোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে এস এম আরাফাত বলেন, প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে শুরু করে সংগ্রহ, পুনঃব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন এবং চূড়ান্ত অপসারণ—পুরো জীবনচক্র বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে টেকসই করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, বর্জ্য ফেলার অভ্যাসে পরিবর্তন এবং উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় ইউএনআইডিও-এর চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। 

কসমস এনজিও-এর নির্বাহী পরিচালক মেহনাজ পারভীন মালা এবং রোভার স্কাউটস ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কমিউনিটি সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

নাটোর পৌরসভার প্রশাসক শামীম হোসেন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, বিশেষ করে রাসায়নিক, কৃষি ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন শহরের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে নাটোরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এবং জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

×