ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

তিন মাসে বিদেশি ঋণ ৪০৫ কোটি ডলার বেড়েছে

তিন মাসে বিদেশি ঋণ ৪০৫ কোটি ডলার বেড়েছে
×
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩২

সরকারি ও বেসরকারি খাতে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত জুন পর্যন্ত বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ৪০৫ কোটি ডলার। এ সময়ে বেসরকারি খাতে কমলেও সরকারি ঋণ বেড়েছে। এর আগে বিদেশি ঋণের সর্বোচ্চ স্থিতি ছিল গত বছরের জুনে ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের তুলনায় জুনে সরকারি খাতে ৪১৯ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ বেড়ে ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলার হয়েছে। গত বছরের জুনে যা ৯ হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার ছিল। আর গত ডিসেম্বরে ছিল ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার। অন্যদিকে, গত মার্চের তুলনায় বেসরকারি খাতে ১৪ কোটি ডলার কমে জুনে এক হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে নেমেছে। বেসরকারি খাতের এ ঋণ

গত ডিসেম্বরের তুলনায়ও কম। ওই সময়ে ঋণ স্থিতি ছিল দুই হাজার ছয় কোটি ডলার। আর গত বছরের জুনে ছিল এক হাজার ৯৮৪ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশি ঋণের সুদহার বেড়েছে। আবার বিনিময় হারজনিত লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে। এসব কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ কমছে। তিনি বলেন, সরকারের মোটা অঙ্কের দায়ের বিপরীতে সুদ যোগ হয়ে এমনিতেই ঋণ বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি আমদানির জন্য স্বল্পমেয়াদি অনেক ঋণ নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের ঋণ এভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতের ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি। গত জুন শেষে সাধারণ মেয়াদি ঋণ বেড়ে আট হাজার ২৭২ কোটি ডলার হয়েছে। তিন মাস আগে যা সাত হাজার ৯৭২ কোটি ডলার ছিল। আর স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়ে জুন শেষে ৪০৯ কোটি ডলার হয়েছে। তিন মাস আগে যা ছিল ২৭৩ কোটি ডলার। সরকারি খাতের অন্যান্য মেয়াদি ঋণ ৮৪৫ কোটি ডলার থেকে কমে ৮২৮ কোটি ডলারে নেমেছে।

বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৯৮২ কোটি ডলার থেকে কমে ৯৬২ কোটি ডলারে নেমেছে। স্বল্পমেয়াদি ঋণ সামান্য বেড়ে এক হাজার ২৫ কোটি ডলার হয়েছে। তিন মাস আগে যা ছিল এক হাজার ২০ কোটি ডলার। বায়ার্স ক্রেডিট, বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক ঋণ ও ডেফার্ড তথা দেরিতে পরিশোধের শর্তে আমদানির ঋণ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণ তিন মাস আগের ৩০৫ কোটি ডলার থেকে কমে জুনে ২৮৬ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৯৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে জুনে ১০২ কোটি ডলার হয়েছে।

আরও পড়ুন

×