ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকে ভ্যাট কমছে

পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকে ভ্যাট কমছে
×
×

জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩৪

পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে এর ওপর ভ্যাট কমানো হচ্ছে। কংক্রিট ব্লকের ওপর ভ্যাট কমাতে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ব্লক প্রস্তুতকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক দেওয়ান মওদুদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এ চিঠি পাঠানো হয়। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়নো, ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণ, নির্মাণ খাতে দূষণ হ্রাস এবং সরকারের পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের স্বার্থে বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির প্রস্তাবগুলো বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সরকার উদীয়মান খাতকে সব সময় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা-পর্যালোচনা করে ভ্যাট কত কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিবিপিএমএস) প্রস্তাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিটি ব্লকের বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এই হার কমিয়ে ৩ শতাংশে নামানোর দাবি জানিয়েছে বিসিবিপিএমএস। 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, সরকারের পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরপর তিনটি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফলোআপ সভায় পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি নির্মাণকাজে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ব্লক ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মান নিশ্চিতে নিয়মিত পরিবীক্ষণের কথা বলা হয়েছে। 

গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ব্লকের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এরপর গত ১৬ আগস্ট পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। মেশিনভিত্তিক বার্ষিক উৎপাদন অনুযায়ী ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ব্লক উৎপাদনকারীরা ইটভাটার মতো মেশিনের ধরন ও উৎপাদনক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের বার্ষিক ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। যে কারখানায় বছরে এক কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার পিস ব্লক উৎপাদন হয়, তাদের জন্য বার্ষিক ভ্যাট পাঁচ লাখ নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

বিসিবিপিএমএসের সাধারণ সম্পাদক জুলকর শাহীন সমকালকে বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিভিন্ন সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি ব্লক খাতকে ভ্যাটমুক্ত রাখার অনুরোধ করেছে। বারবার আশ্বাস  দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এই সুবিধা পায়নি ব্লক শিল্প খাত। অথচ নীতিমালায় ব্লকের ওপর ভ্যাট ও আমদানি করা কাঁচামালের শুল্ক পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কথা বলা আছে। ২০১৯ সালে সরকারি সব নির্মাণকাজে মাটি পোড়ানো ইটের স্থলে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ইটের ব্যবহারই বেশি। অথচ কথা ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মধ্যে সরকারি প্রকল্পে শতভাগ ব্লক ব্যবহার করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সাধারণত মাটি পুড়িয়ে প্রচলিত ইট তৈরি হয়। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমার পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হয়। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও ভূমিকম্প সহনীয় নির্মাণসামগ্রী হচ্ছে ‘ব্লক’। পলি বালুমাটি, সিমেন্ট ও কিছু রাসায়নিকের সমন্বয়ে ব্লক তৈরি হয়। 

আরও পড়ুন

×