দীর্ঘ সময় বিদেশিদের কাছে নাচ শেখার চিত্র পাল্টে গেছে: পূজা
পূজা সেনগুপ্ত
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৬
আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ফিলিপাইনের পিইটিএ (ফিলিপাইন এডুকেশন থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন) তাদের প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর উদযাপন করবে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ম্যানিলায় ‘ধরা তরু কাব্য– ন্যাচারস টেল’-এর আন্তর্জাতিক মঞ্চায়ন হবে। বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও নির্দেশক পূজা সেনগুপ্তের নির্দেশনায় ফিলিপিনো নৃত্যশিল্পীরা ১৫ দিনের কর্মশালার মধ্য দিয়ে এই ড্যান্স থিয়েটারে পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙায় এক তারকা শোতে পূজা হাজির হলে এক ভিডিও বার্তায় তাঁকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান ইউনেস্কো আর্টিস্ট ফর পিস এবং আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সোশ্যাল চেঞ্জ নেটওয়ার্কের সভাপতি সিসিল আলভারেজ।
আলভারেজ বাংলাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তের অসাধারণ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
২০২২ সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত একটি উৎসবে পূজা মাত্র এক দিনের অনুশীলনে স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের প্রস্তুত করে তুরঙ্গমীর “নন্দিনী” কোরিওগ্রাফিটি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারফরম্যান্সের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটিয়ে তুলেছিলেন। দুই দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ভূমিকা রেখেছে ওই আয়োজন।

ওই ভিডিও বার্তায় সিসিল আলভারেজ পূজাকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দেশের শিল্পী পরিবারের পক্ষ থেকে অসাধারণ নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক প্রশংসা প্রকাশ করছি। তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে সংস্কৃতিভিত্তিক আজীবন শিক্ষার যে বৈশ্বিক আন্দোলন আমরা পরিচালনা করছি, সেখানে তিনি একজন মূল্যবান সহযোগী ও অংশীদার।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, ফিলিপাইনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসডিজি উৎসবে পূজা এক অসাধারণ পরিবেশনা উপহার দিয়েছেন। মাত্র এক দিনের মধ্যে তিনি যেসব ফিলিপিনো নৃত্যশিল্পীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে আপনাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে একটি চমৎকার নৃত্যদল গড়ে তোলেন। পূজার সঙ্গে তাদের এই অসাধারণ পরিবেশনা আপনাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মনোমুগ্ধকর চিত্র তুলে ধরেছে। এ কারণে ‘ধরা তরু কাব্য– নেচার’স টেল” প্রযোজনাটির জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নির্মাণে কাজ করব, যা জলবায়ু সংকটের বাস্তবতাকে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ন্যায়সংগতভাবে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।’
আয়োজন নিয়ে নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত বলেন, ‘একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমরা শুধু বিদেশিদের কাছে নাচ শিখেছি। কিন্তু এখন এই চিত্র পাল্টে গেছে। এখন বিদেশিরা আমাদের নাচ শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমি মনে করি, বিদেশি শিল্পীদের কাছে বাংলাদেশের নাচকে মানসম্পন্নভাবে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের নাচ শেখার জন্য তাদের আগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারাটাই আজকের এই এক যুগ পূর্তিতে এসে তুরঙ্গমীর অন্যতম অর্জন।’

এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ফ্রান্সে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন পূজা। নাচের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে অংশগ্রহণের জন্য দেশটির জিয়ানিন লরিনগেট অব জ্যাজ ড্যান্স কোম্পানি তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
এই উপলক্ষে চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্রান্সের নিস শহরে অবস্থান করেন পূজা সেনগুপ্ত। সেখানে লাবান মুভমেন্ট অ্যানালাইসিসের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন এই নৃত্যশিল্পী। সেই সঙ্গে ফ্রান্সের শিল্পীদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাচের ওপর সেশন পরিচালনা করেন।
এ ছাড়া জিয়ানিন লরিনগেট অব জ্যাজ ড্যান্স কোম্পানির সঙ্গে গত বছর নভেম্বরে ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত ‘২৫তম কান আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব’ এ অংশগ্রহণ করেন পূজা সেনগুপ্ত।
নৃত্য ও নির্দেশনার পাশাপাশি পূজা একজন গবেষক। তিনি বাংলাদেশের নিজস্ব নৃত্যধারা নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে গবেষণা করছেন। ২০১৪ সালে ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০১৮-১৯ সালে ফিলিপাইন ড্যান্স এক্সচেঞ্জে নাচ নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। ২০১৮ সালে চীনে ক্যাপিটাল নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বেইজিং ড্যান্স একাডেমি এবং রাশিয়ায় হারজেন স্টেট ইউনিভার্সিটি আয়োজিত নৃত্যশিক্ষা সম্মেলনে তাঁর প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতের একাধিক জার্নালে তাঁর নৃত্যবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
- বিষয় :
- পূজা সেনগুপ্ত