সিডও দিবস আজ
দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নারী নির্যাতন
সাজিদা ইসলাম পারুল
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০১:০২ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০১:০২
দেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়েছে। উৎপাদন, পেশাগত, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয়তা বাড়ছে। তার পরও ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারীরা। বিভিন্নভাবে শিকার হচ্ছেন সহিংসতার। আইনের দ্বারস্থ হলেও মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে বিচার পাচ্ছেন না। এর ফলে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নারী নির্যাতন। এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার পালিত হচ্ছে ‘নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ’ বা সিডও দিবস।
নির্যাতনের প্রতিকার পাওয়া কঠিন
এ বছরের প্রথম আট মাসে ২ হাজার ১৫৫ নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জানুয়ারিতে নির্যাতনের শিকার ২৪০ নারী ও কন্যাশিশু। ফেব্রুয়ারিতে ২৩২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনের শিকার হয়েছে মার্চে ২৪৯ নারী ও কন্যাশিশু। এপ্রিলে নির্যাতনের শিকার ২৩৩ নারী ও কন্যাশিশু। মে থেকে নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যায়। এই মাসে ৩০১ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়। জুনে ৩২৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জুলাইয়ে ২৯৮ নারী ও কন্যাশিশু এবং আগস্টে ২৭৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়।
নারী নির্যাতনের প্রতিকার পাওয়া আগের মতো কঠিনই আছে। কারণ, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী নির্যাতন আইন সংশোধন করা হলেও, সেখানে অনেক ফাঁকফোকর ও বৈষম্যমূলক ধারা রয়েছে বলে মনে করছেন নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, সিডও কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বৈবাহিক ধর্ষণের সংজ্ঞা এখনও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশুরা ধর্ষণ এবং নির্যাতনের শিকার হলেও আইন অনুযায়ী বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দেশনা নেই।
এদিকে, বেশ কয়েকটি খসড়া প্রণয়নের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বস্তরে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও সেটি যথেষ্ট নয়। এ জন্য সর্বাত্মক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন প্রণয়নের দাবি ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ এর প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হকের।
নারীর অধিকার আদায়ে সিডও সনদ
সিডও সনদের মূল বিষয়, নারীর প্রতি সব প্রকার বৈষম্য বিলোপ বা দূরীকরণ। যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে নারীরা পদে পদে বৈষম্যের শিকার। পিতার সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অথচ জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ বা সিডওর গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারায় (২ ও ১৬.১.গ) সরকার এখনও ‘সংরক্ষণ’ বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে আপত্তি তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও গত সাত বছরে এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেনি সরকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সম্প্রতি সরকার ধারা ২ এর ওপর থেকে ‘সংরক্ষণ’ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও অন্য ধারায় বজায় থাকবে। এ ক্ষেত্রেও কোনো কার্যক্রম দেখছি না।’
খসড়া হলেও আইন হয়নি
সিডও কমিটির ২০১৬ সালের সমাপনী অভিমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল অনতিবিলম্বে অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন। অথচ এই আইন প্রণয়নে সরকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। একইভাবে ২০১৪ সালে আইন কমিশন ও ২০১৮ সালে মানবাধিকার কমিশন দুটি খসড়া আইন তৈরি করলেও
এখনও কোনোটিই অনুমোদন করা হয়নি। দুটি আইনই পর্যালোচনাধীন বা বিবেচনাধীন বলে সরকার ফলোআপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে ডা. ফওজিয়া বলেন, সিডও সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে দায়বদ্ধ হতে হবে। ইতোমধ্যে নারীবান্ধব বেশ কয়েকটি আইন হয়েছে। তবে এখনও এসব আইনের সুফল নারীরা ভোগ করতে পারেননি। কারণ, আইনগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
- বিষয় :
- সিডও দিবস
- নারী নির্যাতন