করোনাকালে অনুদান চাইলো কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ০৪:৪৭ | আপডেট: ১১ মে ২০২০ | ০৫:০৮
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক অনুদান চেয়েছেন স্কুল মালিকরা।
সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদ (বিকসকপ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ হাজারের বেশী কিন্ডারগার্টেন তথা ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাতে কর্মরত ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষের অধিক মানুষের, সে সাথে রয়েছে তাদের পরিবারবর্গ। এই ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার প্রসারেই শুধু ভূমিকা রাখেনি, দেশের বেকারত্ব নিরসনেও এক বিশাল অবদান রেখেছে।
বর্তমানে বিশ্ব মহামারী করোনা দূর্যোগ নিয়ন্ত্রণকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১৬ মার্চ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করায় আমরাও কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই সাথে সাথে আমারে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষনা করি, যা অদ্যাবধি বন্ধ রয়েছে। আরো কত দিন বন্ধ থাকবে জানা নেই। এই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মাসিক টিউশন ফি'র উপর নির্ভরশীল এবং ৯৯% ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। শিক্ষার্থীদের মাসিক টিউশন ফি'র ৪০% বাড়ী ভাড়া, ৪০% শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের বেতন, বাকি ২০% গ্যাস বিল, বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহ না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দিতে হয়।
এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় না হওয়ায় মার্চ মাস থেকে এই পর্যন্ত আমরা সকল প্রকার বিলসহ বাড়ী ভাড়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের বেতন পরিশোধ করতে পারিনি বিধায় বাড়ীর মালিক বাড়ী ভাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও গরীব কর্মচারীবৃন্দ অর্থকষ্টে মানবেতর জীনব যাপন করছে।
ফলে এইসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবিকা নির্বাহের আরেকটি উৎস প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ। এমতাবস্থায় আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল মানবতার মা হিসেবে মাননীয় মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনাদের মাধ্যমে মানবিক সহায়তার আবেদন করছি।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা সামাজিক মর্যাদার কারণে কারো কাছে হাত পাততে পারেনা, লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণও গ্রহন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি সইতেও পারছিনা, দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে আমাদের জীবন জীবিকা। তাই আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোজাহিদ, সাফায়েত হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, লূৎফুন নাহার।