১৩ বছর পর তৈরি নতুন নীতিতে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা-দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | ২০:০৮
১৩ বছর পর নতুন জনসংখ্যা নীতি তৈরি করল সরকার। এর আগে ২০১২ সালে জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই নীতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নতুন নীতিতে জনসংখ্যার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুস্থ, সুখী এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সোমবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন জনসংখ্যা নীতিতে ৬টি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা নিশ্চিত করা। চাহিদাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ঘটানো এবং জননীতির লভ্যাংশ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানো। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ মৃত্যু, নবজাতক ও শিশু মৃত্যু হ্রাস করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং ভবিষ্যতের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে শহর ও গ্রামে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
তাছাড়া, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ডা. মো. সারোয়ার বারী বলেন, প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনে একাধিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়নে কাজ করবে ২৯টি মন্ত্রণালয়। ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে এই নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নীতি বাস্তবায়ন এবং সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ, যার দেখভাল করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে গত ১৫ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো সভার আয়োজন করেনি। এখন যেহেতু জাতীয় জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, তাই খুব শিগগিরই সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং শিশুদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর ফলে এই বছরই অনেক স্কুল কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী পাবে না। এ প্রবণতা আরও বাড়বে।
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ন্যায্য ও সম্ভাবনাময় বিশ্বে পছন্দের পরিবার গড়তে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন জরুরি। তরুণদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে তারা ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, যেকোনো দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে ধরা হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মক্ষম হয়ে উঠলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই জনসংখ্যাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য একটি বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।
