সারাদেশে কারফিউ জারি, ঘোষণা হয় ছাত্রদের ৯ দফা
ইন্টারনেট বন্ধ করে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ
ফাইল ছবি
লতিফুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৫৭
আজ ১৯ জুলাই। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম হত্যাযজ্ঞ চলায় শেখ হাসিনা সরকার। এক দিনে ১৭৭ জনকে হত্যা করা হয়। অভ্যুত্থান দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে কারফিউ দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটার প্রতিবাদে গত বছর ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা তাদের রাজাকারের নাতিপুতি আখ্যা দিলে, শিক্ষার্থীরা সেই রাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বহিরাগতরা।
প্রতিবাদে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দাঁড়ান আবু সাঈদ। সেই দিন শহীদ হন ছয়জন। পরের দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতাও সড়কে নেমে আসে।
১৮ জুলাই প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সেদিন অন্তত ৫৬ জনকে হত্যা করা হয়। ১৯ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের অস্ত্রধারীরা পথে পথে হত্যা করে ছাত্র-জনতাকে। এক দিনে অন্তত ১৭৭ জন নিহত হন।
১৭ জুলাই রাতেই বন্ধ করা হয় মোবাইল ইন্টারনেট। ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্ধ করা হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও। সেদিন রাতে সারাদেশে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওবায়দুল কাদের জানান, দেখা মাত্র গুলির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯ জুলাই ছাত্র হত্যার দায় নিয়ে শেখ হাসিনার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাসহ ৯ দফা দাবি জানায়। সেদিনই সংগঠনটির নেতা নাহিদ ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গুম করা হয়। মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ, র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি করা হয়। টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেডও ছোড়া হয় আকাশ থেকে। মধ্যরাতে আন্দোলনকারীদের দমনে রাজধানীতে ‘ব্লক রেড’ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নাশকতাকারী ধরার নামে সরাসরি গুলি করা হয় অভ্যুত্থানকারী সন্দেহে। ১৯ জুলাই বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- কারফিউ
