কারফিউ ভাঙার বর্ষপূর্তি: শাহবাগে নারী সংগঠনগুলোর তিন দফা দাবি
‘কারফিউ ভেঙে নারীদের সমাবেশ’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫ | ০৪:২১
‘কারফিউ ভেঙে নারীদের সমাবেশ’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রগতিশীল নারী সংগঠন, স্বতন্ত্র অধিকারকর্মী ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্মরণ সমাবেশ হয়েছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ থেকে তারা তিন দফা দাবি জানান। সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিল– ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম চলবেই। ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কারফিউ ভেঙে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নারীরা পল্টন মোড়ে ‘হামার বেটাক মারলু ক্যানে’ শীর্ষক একটি সমাবেশ করেছিলেন।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলু মাখামিন শিল্পী, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অর্ণি আনজুম, তথ্য আপা রাজস্বকরণ আন্দোলনের রোমানা ইসলাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রূপসী চাকমা, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লালরিথাং বম, ছাত্র ফেডারেশনের দীপা মল্লিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এক বছরে সরকার পাল্টালেও নিপীড়নের কাঠামো পাল্টায়নি। বরং আরও জোরালোভাবে ফিরে এসেছে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, বিচারহীনতা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শত্রুতামূলক মনোভাব। এখনও কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার বিচার পেছাতে থাকে, এখনও বম জাতির তিন সদস্য কারাগারে মারা যান রাষ্ট্রীয় অবহেলায়।
তারা আরও বলেন, চাকরি রাজস্বকরণের দাবি নিয়ে তথ্য আপা প্রকল্পের নারী কর্মীরা দুই মাস ধরে রাস্তায় বসে রয়েছেন। তাদের সাত বছরের চাকরিজীবনে কাটা ২০ কোটি টাকার বেতনও ফেরত দিচ্ছে না রাষ্ট্র।
এ সময় তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো– তথ্য আপা প্রকল্পের আন্দোলনরত কর্মীদের চাকরি অবিলম্বে রাজস্বভুক্ত করতে হবে; কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার খারিজ হওয়া আদেশ বাতিল করে নতুন করে তদন্ত শুরু করতে হবে এবং চিহ্নিত অপহরণকারী লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং পাহাড়-সমতলে নারীর ওপর চলমান ধর্ষণ, নিপীড়ন ও মব সন্ত্রাসের বিচার করতে হবে এবং কারাবন্দি বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য মিছিল শাহবাগ থেকে বের হয়ে টিএসসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে হাত রেখে, কণ্ঠে প্রতিবাদের গান তুলে জানান– লড়াই থেমে থাকবে না।
