রোদপ্রবণ দক্ষিণ এশিয়া সৌর বিদ্যুতের নেতৃত্ব দিতে পারে: গবেষণা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫ | ১৫:০০
রোদপ্রবণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছে এনার্জি ট্রানজিশনস কমিশন (ইটিসি)। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপান্তর: উচ্চ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদা ৩০ হাজার টেরাওয়াট থেকে বেড়ে ৯০ হাজার টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ হতে পারে শূন্য-কার্বন নবায়নযোগ্য উৎস থেকে—প্রধানত সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ। বর্তমানে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্ভাবনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের সূর্যবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপারে বড় সম্ভাবনা রাখে। সস্তা সৌর প্যানেল এবং উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির সুবাদে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ কমছে। সঠিকভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলে এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ট্রান্সমিশনের খরচ নিশ্চিত করা গেলে সৌর বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিন-রাত নির্বিশেষে নিরবচ্ছিন্ন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে আধুনিক বিদ্যুৎ গ্রিড, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং চাহিদাভিত্তিক স্মার্ট বিদ্যুৎ ব্যবহার পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বিনিময় জোরদার করলে ব্যয় কমানো ও জ্বালানি ভারসাম্য বজায় রাখাও সহজ হবে।
ইটিসি বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বায়ু ও সূর্যবেষ্টিত দেশগুলোতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা মাত্র ৩০–৪০ ডলার হতে পারে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। প্রতিবেদন আরও বলেছে, স্মার্ট গ্রিড এবং সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সময় পরিবর্তন করে ব্যবহার সম্ভব, যা ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
ইটিসি-এর চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাডেয়ার টার্নার বলেন, পারমাণবিক ও ভূ-তাপীয় প্রযুক্তিও শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখবে। তবে অধিকাংশ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি আসবে সৌর ও বায়ু থেকে—এবং তা জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়েও কম খরচে। বিশেষ করে সূর্যবেষ্টিত অঞ্চলগুলোতে সৌর ও ব্যাটারির দামে ব্যাপক পতন এখন দ্রুত ও সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ সম্ভব করে তুলেছে—যা এক দশক আগেও কল্পনাতীত ছিল।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে ইটিসি। এগুলো হল- নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিড সম্প্রসারণের পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যুৎ বাজার সংস্কার, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা, যেন প্রকল্পে বিলম্ব না হয়।
