শিক্ষা উপকরণ বিতরণে গিনেস রেকর্ডে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কাগজবাড়ির পরিচালক ও গিনেস রেকর্ড ক্যাম্পেইনের আহ্বায়ক জাহিদ আনোয়ার। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ | ২১:৩১
‘জুলাইয়ের রক্তে লিখি শিক্ষার অধিকার’ প্রতিপাদ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ক্যাম্পেইন আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘কাগজবাড়ি’।
আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কাগজবাড়ির পরিচালক ও গিনেস রেকর্ড ক্যাম্পেইনের আহ্বায়ক জাহিদ আনোয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। কোটা সংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই বিপ্লব এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জন্ম দিয়েছে। আর সেই সাহসী আন্দোলনের চেতনা ও শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে কাগজবাড়ি হাতে নিয়েছে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মহতি উদ্যোগ।
এই উদ্যোগে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১৫০০টি স্কুলে প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থীর হাতে এক মাসের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হবে। বিতরণকৃত উপকরণের ওজন হবে প্রায় ৬০ হাজার কেজি। গিনেস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মান ও নির্দেশনা মেনে এই রেকর্ড গড়ার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভারতের গুজরাটের ‘গোকুলধাম নার’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘হেলপিং হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি ভার্জিনিয়া’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের দখলে। তারা ২০২২ সালের ২২ মে গুজরাটের ১০১৯টি স্কুলে ৪ লাখেরও বেশি খাতা বিতরণ করেছিল, যার মোট ওজন ছিল ৫৬ হাজার ৫০৫ কেজি।
জাহিদ আনোয়ার বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি পতাকা নয়—স্বাধীনতা মানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি খাতা, একটি কলম, একটি সুযোগ। সেই লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি। এই ক্যাম্পেইন শুধু একটি রেকর্ড নয়, এটি একটি শিক্ষা-আন্দোলন, একটি চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
উদ্যোগে সবার অংশগ্রহণ কামনা করে তিনি বলেন, আমরা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, করপোরেট গ্রুপ, এনজিও ও বিত্তবান নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই গৌরবের যাত্রায় অংশ নেন। আপনাদের সহযোগিতায় লাখো শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাবে শিক্ষা উপকরণ এবং আপনিও হয়ে উঠবেন একটি ইতিহাসের অংশীদার।
ক্যাম্পেইনের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। আমার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি এই ক্যাম্পেইনের সার্বিক সফলতায় পাশে থাকব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ক্যাম্পেইনের বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিজিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম এবং গ্লোবাল নলেজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক।
এ সময় কাগজবাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজোয়ান কবির কৌশিক, পরিচালক মো. শাহ আলম ও একে সালমানসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- গিনেস রেকর্ড
- গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
- শিক্ষা
