ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেমিনারে তথ্য

৫০৮০ কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৫১৬টি স্থাপনের পরিকল্পনা

৫০৮০ কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৫১৬টি স্থাপনের পরিকল্পনা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ০৪:৪২

বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজার ৮০টি কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্লিনিক জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কর্মী ও রোগীর জন্য সেবাপ্রদান কিংবা গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা জরুরি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) সম্মেলন কক্ষে  ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, দেশে বর্তমানে ১৪ হাজার ৪২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে তিন ক্যাটেগরিতে মোট পাঁচ হাজার ৮০টি ক্লিনিককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। এসব ভবনের ছাদে ফাটল ধরেছে বা ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নতুন করে আরও ৫১৬টি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে  আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে জাপান জাইকা।’ তবে ক্লিনিকগুলো কবে নাগাদ নির্মাণ শুরু হবে, তা বলা হয়নি। 

শহর এলাকাতেও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শহরে জমি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে, জনস্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা অবকাঠামো থাকা উচিত। 

ওষুধ সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইতোমধ্যে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে ১২০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব ওষুধ এক সপ্তাহের মধ্যেই সব কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া আরও ২০০ কোটি টাকার ওষুধ দ্রুত কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের মাঠ প্রশাসনের পরিচালক আসিফ মাহমুদ বলেন, ক্লিনিকগুলোর নিজস্ব ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ধাপে ধাপে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে আছে ৫৪ শতাংশ। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে তাদের ধাত্রীবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ। এ ছাড়া হাওর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতি এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার মানুষের জন্য একটি করে নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধমূলক ও পরামর্শমূলক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। এখানে সাধারণত দামি ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক থাকে না। প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, এন্টাসিড ইত্যাদি সাধারণ ওষুধ দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন

×