ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ

ফ্রিজ, এসি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৬

কেরানীগঞ্জে এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধ

ফ্রিজ, এসি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৬
×

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শুক্রবার গভীর রাতে একটি বাড়িতে ফ্রিজে বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যায় পুরো ঘর, দগ্ধ হন ৯ জন। শনিবার তোলা- সমকাল

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫ | ০১:২৮ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৫ | ০২:০১

ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে সাত শিশু ও তিন নারী রয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত তিন জেলায় ঘটনাগুলো ঘটেছে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৯, ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ ও দিনাজপুর শহরে বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আর রাজধানীর মহাখালীতে ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ নিরাপত্তাকর্মী গতকাল শনিবার মারা গেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি পূর্বপাড়া মুড়ি ফ্যাক্টরির গলির জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়িতে ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই বাড়ির পাশাপাশি দুটি পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কাঁচপুর ও আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন তাহেরা বেগম (৬৫), মো. হাসান (৩৭), সালমা (৩০), মুনতাহা (১১), জান্নাত (৪), রাইয়ান (১ মাস), আসমা বেগম (৩৫), তিশা আক্তার (১৬) ও আরাফাত (১৩)।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণে ঘরের মধ্যে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। ভ্যান ও অটোরিকশায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়। পরে গুরুতর দগ্ধ তাহেরা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আটজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

আহত তাহেরার ছোট বোন মরিয়ম আক্তার বলেন, অগ্নিদগ্ধদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তিনি জানান, তাহেরা তিন মাস আগে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারের পলাশ গ্রাম থেকে মেয়েদের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিকট শব্দে ঘরের মধ্যে আগুন ধরে যায়। টিনের চালা কিছুটা ছুটে যায়। পাশাপাশি দুটি কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন হাসান ও তানজিল। বিস্ফোরণে দুটি কক্ষেই আগুন ধরে যায়। গতকাল সকালে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মামুন জানান, অগ্নিদগ্ধ হাসানের শ্বশুর আবদুর রশিদ প্রায় ৩০ বছর এই বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। কিছুদিন আগে রশিদ মারা যান। তাঁর তিন মেয়ের জামাই ও নাতি-নাতনিসহ তিনটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। এর মধ্য দুটি কক্ষের সবাই দগ্ধ হয়েছেন। এই বাড়িতে তারা পোশাক তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে ওই রাতে তাহেরার মেয়ের জামাই তানজিল ওরফে তাঞ্জু বাসায় ছিলেন না। হাসান ও তানজিল দিনমজুরি করতেন। তানজিলের স্ত্রী আসমা আদমজী ইপিজেডে চাকরি করতেন। মেয়ে তিশা আক্তার নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ছেলে আরাফাত মাদ্রাসায় পড়ে।

পাইনাদির বাসিন্দা মো. মামুন আরও জানান, বিদ্যুতের শর্টসার্কিটের কারণে ফ্রিজের কম্প্রেসারের বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
তাহেরার ভাইয়ের ছেলে মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফুফুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম বলেন, তদন্ত করলে বলা যাবে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে যতটুকু বুঝতে পারছি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়িতে এর আগে দুবার তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। ওই বাড়ির নিচ দিয়ে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন রয়েছে।
আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. মিরন মিয়া বলেন, শর্টসার্কিটের কারণে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ ঘটেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন, এদের শরীরের ৩০ থেকে ৫৩ শতাংশ পুড়েছে।

কেরানীগঞ্জে এসি বিস্ফোরণে আহত ৪
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিনজিরা মডেল টাউনে এক ভবনে গত শুক্রবার গভীর রাতে এসি বিস্ফোরণ হয়। এতে এক পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন মো. মামুন আহমেদ (৪৫), তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৮) ও তাদের দুই সন্তান মিহাদ আহমেদ (১৬) ও সিয়াম আহমেদ (১২)। আহতদের গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানকার আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের ১০ তলা ভবনের সপ্তম তলায় ভাড়া থাকেন মামুন। রাতে হঠাৎ এসি বিস্ফোরণ হলে ভেতরে আগুন ধরে যায়। এ সময় চারজন আহত হন। কিন্তু সকাল থেকে তাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করছিল এবং থুতুর সঙ্গে কালো ছাই আসছিল। গতকাল দুপুরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু জানান, খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

দিনাজপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ
দিনাজপুর শহরে বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালবাগের লেবুরে মোড়ে আনিসুর রহমানের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধরা হলেন শুভ ইসলাম (৩৩), হাসির ইসলাম (৩০) ও রফিকুল ইসলাম (৪৫)।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ওবায়দুর বলেন, রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে লিকেজ ছিল। পরিবারের লোকজনের অসাবধানে আগুন ধরায়। লিকেজ হওয়া গ্যাস থেকে ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। দগ্ধদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারও পিঠ ও কারও পায়ের কিছু অংশ পুড়েছে।

মহাখালী ফিলিং স্টেশনে দগ্ধ ব্যক্তি মারা গেছেন
রাজধানীর মহাখালীতে ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ নিরাপত্তাকর্মী মীর হোসেনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মীর হোসেনের ৪৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে ছিল। শুরু থেকে তাঁর অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। গতকাল তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
১৭ আগস্ট বিকেলে মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের পাশে ইউরেকা ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফিলিং স্টেশনটির ক্যাশিয়ার সাদাকাত হোসেন জানান, মীর হোসেনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায়। তিনি নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ২০ বছর ধরে এখানে কাজ করেছেন।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সমকাল প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।)


 

আরও পড়ুন

×