ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

একাদশে ভর্তি: কোটায় ভুয়া আবেদনের ছড়াছড়ি

একাদশে ভর্তি: কোটায় ভুয়া আবেদনের ছড়াছড়ি
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ০২:৩৪ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ০৫:৫০

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে ‘এডুকেশন কোটা’ রাখা হয়েছে। সংক্ষেপে একে ‘ইকিউ’ বলা হচ্ছে। দুই ধরনের ইকিউ রয়েছে ইকিউ-১ ও ইকিউ-২। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে চাকরিরতদের সন্তান বা পোষ্যরা এ কোটা পাবে। তাদের মধ্যে কেউ ইকিউ-১ এবং কেউ ইকিউ-২ পাবে।

একাদশে ভর্তি কমিটির সদস্যরা জানান, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এ কোটায় আবেদন করে ভর্তি হতে প্রত্যয়নপত্র লাগবে। প্রত্যয়নপত্র না থাকলে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত ভর্তির সময় সেই প্রার্থী বাদ পড়বে। কিন্তু অনেক সাধারণ প্রার্থী ভুয়া তথ্য-পরিচয় দিয়ে চতুরতার সঙ্গে এ কোটায় আবেদন করেছে।

কোটায় ভুয়া এমন আবেদনের হার বেশি পড়ায়, এটা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ও ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

রোববার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে আবেদনে ইকিউ-১, ইকিউ-২ কোটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে। ইকিউ-১ এ আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে এ কোটায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান হতে হবে।

ইকিউ-২ এর যোগ্যতার ক্ষেত্রে এ কোটায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নির্ধারিত ২৮টি দপ্তর, সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান হতে হবে। 

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসগুলোতে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানের ক্ষেত্রে এ কোটা সুবিধা পাওয়া যাবে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইকিউ-১ ও ২ কোটার প্রার্থীদের অনলাইনে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে এ কোটার সঠিক প্রমাণক জমা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না।

কোটার জন্য বিবেচিত না হওয়া সত্ত্বেও আবেদন করা শিক্ষার্থীদের আবেদন বা নিশ্চায়ন বাতিল করার পরামর্শ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, যেসব প্রার্থী যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বোর্ডে গিয়ে আবেদন বা নিশ্চায়ন বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের আবার আবেদন করতে বলা হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত একাদশে প্রথম ধাপে ভর্তির আবেদন নেওয়া হয়। এ ধাপে ১০ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। বাকি ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কলেজ পায়নি। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পাওয়া পৌনে ছয় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা প্রথম ধাপে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়নি এবং আবেদন করেনি, তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×